ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) বেহুলা গীতাভিনয়
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেনের উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে জানতে হলে তাঁর জীবন ও সাহিত্য সাধনার দিকে দৃষ্টিপাত করা প্রয়োজন।
**মীর মশাররফ হোসেন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— তিনি ছিলেন একজন মুসলিম লেখক, যিনি বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সমাজের জীবনচিত্র তুলে ধরেছেন।
— তাঁর জন্ম ১৮৪৭ সালে কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়া গ্রামে এবং মৃত্যু ১৯১২ সালে।
— তিনি ছিলেন একজন বহুমুখী প্রতিভাধারী ব্যক্তিত্ব — সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সমাজ সংস্কারক ও রাজনীতিবিদ।
— তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, জীবনী ও অনুবাদ সাহিত্য।
— তিনি প্রথম মুসলিম লেখক হিসেবে বাংলা সাহিত্যে খ্যাতি অর্জন করেন।
— তাঁর সাহিত্যকর্মে মুসলিম সমাজের সংস্কৃতি, ধর্মীয় অনুভূতি ও সামাজিক সমস্যার প্রতিফলন ঘটেছে।
— তিনি ছিলেন কলকাতা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পত্রিকা "হিতকরী"র সম্পাদক।
**মীর মশাররফ হোসেন রচিত উল্লেখযোগ্য নাটকসমূহ:**
— বেহুলা গীতাভিনয় (১৮৮৪) — এটি তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাটক, যা মৈমনসিংহ গীতিকার কাহিনী অবলম্বনে রচিত।
— জমিদার দর্পণ (১৮৭৩) — এটি তাঁর প্রথম নাটক, যা সমাজের জমিদার শ্রেণির অত্যাচার তুলে ধরে।
— বসন্তকুমারী (১৮৭৩) — এটি একটি প্রহসনধর্মী নাটক।
— টালা অভিনয় (১৮৭৩) — এটি একটি সামাজিক নাটক।
— রত্নাবতী (১৮৭৩) — এটি একটি ঐতিহাসিক নাটক।
— কৃষ্ণকুমারী (১৮৭৩) — এটি একটি ঐতিহাসিক নাটক, তবে এটি তাঁর রচিত নয় — এটি দীনবন্ধু মিত্রের রচনা।
— নবীন তপস্বিনী (১৮৭৩) — এটি একটি সামাজিক নাটক, তবে এটি তাঁর রচনা নয় — এটি দীনবন্ধু মিত্রের রচনা।
— নটির পূজা (১৮৭৩) — এটি একটি প্রহসনধর্মী নাটক, তবে এটি তাঁর রচনা নয় — এটি দীনবন্ধু মিত্রের রচনা।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) নটির পূজা: এটি দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি প্রহসনধর্মী নাটক, মীর মশাররফ হোসেনের নয়।
✗ গ) নবীন তপস্বিনী: এটি দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি সামাজিক নাটক, মীর মশাররফ হোসেনের নয়।
✗ ঘ) কৃষ্ণকুমারী: এটি দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি ঐতিহাসিক নাটক, মীর মশাররফ হোসেনের নয়।
**উৎস:**
— "মীর মশাররফ হোসেন রচনাবলী" (বাংলা একাডেমি)
— "বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস" — ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
— "বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস" — ড. দেবেশ চন্দ্র বর্মণ