ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) হ্+ম
যুক্তবর্ণ গঠনের নিয়ম সম্পর্কিত ভূমিকা:
বাংলা ভাষায় যুক্তবর্ণ গঠিত হয় দুই বা ততোধিক ব্যঞ্জনবর্ণের সমন্বয়ে। বাংলা বর্ণমালায় ব্যঞ্জনবর্ণের উচ্চারণের সময় স্বরধ্বনির সাহায্য ব্যতীত যে ধ্বনি উৎপন্ন হয় তাকে ব্যঞ্জনধ্বনি বলে। যুক্তবর্ণ গঠনের ক্ষেত্রে প্রথম ব্যঞ্জনটির নিচে হসন্ত (্) যুক্ত হয়ে দ্বিতীয় ব্যঞ্জনটির সাথে যুক্ত হয়। যেমন: ক্+ষ=ক্ষ, ত্+র=ত্র ইত্যাদি।
“হ্ম” যুক্তবর্ণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— “হ্ম” হলো একটি যুক্তবর্ণ যা বাংলা বর্ণমালায় ব্যবহৃত হয়।
— এটি গঠিত হয়েছে “হ্” (হ ব্যঞ্জনবর্ণ) এবং “ম” (ম ব্যঞ্জনবর্ণ) এর সমন্বয়ে।
— উচ্চারণের ক্ষেত্রে “হ্ম” এর উচ্চারণ প্রায় “ম্ম” এর মতোই হয়, যেমন: “হ্ম” যুক্ত শব্দ “উন্মুক্ত” এর উচ্চারণ “উন্মুক্ত” (উম্-মুক্ত)।
— বাংলা ভাষায় “হ্ম” যুক্তবর্ণটি তুলনামূলকভাবে কম ব্যবহৃত হয়। সাধারণত সংস্কৃত থেকে আগত শব্দে এটি দেখা যায়, যেমন: “উন্মেষ”, “উন্মুক্ত”, “সম্মান” ইত্যাদি।
— বাংলা একাডেমির বর্ণমালা অনুসারে ব্যঞ্জনবর্ণের তালিকায় “হ্ম” একটি বিশেষ যুক্তবর্ণ হিসেবে বিবেচিত।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ খ) ক্+ম: এটি “ক্ম” যুক্তবর্ণ গঠন করবে, যা বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয় না। যেমন: “ক্ম” যুক্ত কোনো শব্দ বাংলায় নেই।
✗ গ) ষ্+ম: এটি “ষ্ম” যুক্তবর্ণ গঠন করবে, যা সংস্কৃত থেকে আগত কিছু শব্দে ব্যবহৃত হয়, যেমন: “ষষ্ঠ” (ষ্+ষ+থ), তবে “হ্ম” গঠনে এটি প্রযোজ্য নয়।
✗ ঘ) ম্+হ: এটি “ম্হ” যুক্তবর্ণ গঠন করবে, যা বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয় না। যেমন: “ম্হ” যুক্ত কোনো শব্দ বাংলায় নেই।
উৎস:
— বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম (২০১৬ সংস্করণ)
— বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (ড. হায়াৎ মামুদ)
— মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (এনসিটিবি)