ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) জয়নন্দী
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের ধারা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা
**মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য** বলতে সাধারণত খ্রিস্টীয় ১৩শ থেকে ১৮শ শতাব্দী পর্যন্ত রচিত সাহিত্যকে বোঝানো হয়। এই সময়কালে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য বিকাশ ঘটে। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত তিনটি ধারায় ভাগ করা যায়:
— শ্রীকৃষ্ণকীর্তন ধারা (বড়ু চণ্ডীদাস)
— বৈষ্ণব পদাবলি ধারা (চণ্ডীদাস, জ্ঞানদাস, গোবিন্দদাস প্রমুখ)
— মঙ্গলকাব্য ধারা (মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ইত্যাদি)
**জয়নন্দী** সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— জয়নন্দী ছিলেন একজন প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের কবি, যিনি খ্রিস্টীয় ১২শ শতাব্দীতে বর্তমান ছিলেন।
— তিনি মূলত সংস্কৃত ভাষায় রচনা করতেন, বাংলা সাহিত্যের বিকাশের পূর্ববর্তী যুগের কবি হিসেবে পরিচিত।
— জয়নন্দীর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো **"রামচরিত"** (বা রামচরিতামৃত), যা সংস্কৃত ভাষায় রচিত একটি মহাকাব্য।
— জয়নন্দীকে বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের কবি হিসেবে বিবেচনা করা হয়, মধ্যযুগের কবি হিসেবে নয়।
**বড়ু চণ্ডীদাস** সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— বড়ু চণ্ডীদাস ছিলেন মধ্যযুগের একজন বিখ্যাত বৈষ্ণব পদাবলির কবি।
— তিনি খ্রিস্টীয় ১৫শ শতাব্দীতে বর্তমান ছিলেন।
— তার উল্লেখযোগ্য রচনা হলো **"শ্রীকৃষ্ণকীর্তন"**, যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।
— তিনি বৈষ্ণব পদাবলির অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত।
**গোবিন্দ দাস** সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— গোবিন্দ দাস ছিলেন মধ্যযুগের একজন বিখ্যাত বৈষ্ণব পদাবলির কবি।
— তিনি খ্রিস্টীয় ১৬শ শতাব্দীতে বর্তমান ছিলেন।
— তিনি চৈতন্য মহাপ্রভুর সমসাময়িক ছিলেন এবং তার রচনায় চৈতন্যদেবের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
— তার উল্লেখযোগ্য রচনা হলো **"গোবিন্দ দাস পদাবলী"**।
**জ্ঞান দাস** সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— জ্ঞান দাস ছিলেন মধ্যযুগের একজন বিখ্যাত বৈষ্ণব পদাবলির কবি।
— তিনি খ্রিস্টীয় ১৬শ শতাব্দীতে বর্তমান ছিলেন।
— তিনি চৈতন্য মহাপ্রভুর শিষ্য ছিলেন এবং তার রচনায় বৈষ্ণব ভাবধারা প্রকাশ পেয়েছে।
— তার উল্লেখযোগ্য রচনা হলো **"জ্ঞান দাস পদাবলী"**।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ খ) বড়ু চণ্ডীদাস: তিনি মধ্যযুগের কবি ছিলেন, তার রচিত "শ্রীকৃষ্ণকীর্তন" বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন।
✗ গ) গোবিন্দ দাস: তিনি মধ্যযুগের বৈষ্ণব পদাবলির কবি ছিলেন, চৈতন্যদেবের সমসাময়িক।
✗ ঘ) জ্ঞান দাস: তিনি মধ্যযুগের বৈষ্ণব পদাব