ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) কিউম্যুলাস
**মেঘ সম্পর্কিত ভূমিকা:**
মেঘ হলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণা বা বরফকণার সমষ্টি, যা বায়ুমণ্ডলে ভাসমান অবস্থায় থাকে। মেঘকে প্রধানত উচ্চতা, আকার ও গঠনের ভিত্তিতে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। উচ্চতার ভিত্তিতে মেঘকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়:
১) উচ্চ মেঘ (৫-১৩ কিমি)
২) মধ্যম উচ্চতার মেঘ (২-৭ কিমি)
৩) নিম্ন মেঘ (ভূপৃষ্ঠ থেকে ২ কিমির মধ্যে)
**কিউম্যুলাস মেঘ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **উচ্চতা:** সাধারণত ২-৭ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থান করে, অর্থাৎ মধ্যম উচ্চতার মেঘ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ।
— **আকার ও গঠন:** তুলার মতো ফোলা ফোলা দেখতে, সাদা বা ধূসর বর্ণের। উল্লম্বভাবে উঁচু হতে পারে এবং অনেক সময় স্তরে স্তরে সাজানো থাকে।
— **আবহাওয়ার পূর্বাভাস:** সাধারণত শান্ত আবহাওয়ার নির্দেশক। তবে যদি উল্লম্বভাবে খুব উঁচু হয়ে যায় (যেমন কিউম্যুলোনিম্বাস মেঘ), তাহলে বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস দেয়।
— **বৈশিষ্ট্য:** সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে উজ্জ্বল দেখায়। ভূমি থেকে দেখলে অনেকটা তুলার স্তুপের মতো মনে হয়।
---
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ **ক) সিরাস:** উচ্চ মেঘের শ্রেণিভুক্ত (৫-১৩ কিমি)। দেখতে সরু, সাদা, তুলার মতো রেখার মতো। সাধারণত আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয় যে আবহাওয়া পরিবর্তন হতে পারে।
✗ **খ) নিম্বাস:** নিম্ন মেঘের শ্রেণিভুক্ত (ভূপৃষ্ঠ থেকে ২ কিমির মধ্যে)। ঘন, অন্ধকারাচ্ছন্ন মেঘ যা অবিরাম বৃষ্টি বা তুষারপাত ঘটায়। উদাহরণ: নিম্বোস্ট্রেটাস।
✗ **ঘ) স্ট্রেটাস:** নিম্ন মেঘের শ্রেণিভুক্ত। স্তরে স্তরে বিস্তৃত ধূসর মেঘ যা ঘন কুয়াশার মতো দেখায়। সাধারণত হালকা বৃষ্টি বা তুষারপাত ঘটায়।
---
উৎস:
1. আবহাওয়া অধিদপ্তর, বাংলাদেশ - মেঘ শ্রেণিবিন্যাস সম্পর্কিত নির্দেশিকা।
2. "A Guide to the Sky" - Richard Hamblyn (মেঘ ও আবহাওয়ার উপর বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে)।
3. BCS সাধারণ জ্ঞান প্রশ্নব্যাংক - বিভিন্ন পরীক্ষায় আসা মেঘ সম্পর্কিত প্রশ্নের সমাধান।