ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন
<সাধারণ জ্ঞান বিষয়ক ভূমিকা>
বাংলা ব্যাকরণে সমাস একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সমাসের মাধ্যমে একাধিক শব্দকে একত্রিত করে নতুন শব্দ গঠন করা হয়। কর্মধারয় সমাসের মধ্যেও রয়েছে বিভিন্ন প্রকারভেদ। এর মধ্যে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস একটি বিশেষ ধরনের সমাস, যেখানে সমাসবদ্ধ পদ গঠনের সময় মধ্যপদের লোপ ঘটে। এই ধরনের সমাস সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
**মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস হলো কর্মধারয় সমাসের একটি বিশেষ প্রকার। এখানে সমাসবদ্ধ পদ গঠনের সময় মধ্যপদের লোপ ঘটে।
— সাধারণ কর্মধারয় সমাসে সমস্ত পদটি বিশেষণ ও বিশেষ্য পদ দ্বারা গঠিত হয়, যেখানে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসে মধ্যপদের অনুপস্থিতি লক্ষ করা যায়।
— উদাহরণস্বরূপ, "সিংহ চিহ্নিত আসন" এর মধ্যপদ "চিহ্নিত" লোপ পেয়ে "সিংহাসন" গঠিত হয়।
— এই ধরনের সমাসে সাধারণত কর্মবাচ্যের মধ্যপদ লোপ পায়। যেমন: "মহান যে পুরুষ" নয়, বরং "মহাপুরুষ" হলো সাধারণ কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।
— মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের আরেকটি উদাহরণ হলো "চন্দ্রচূড়" (চন্দ্রের ন্যায় চূড়া যার)।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) মহান যে পুরুষ = মহাপুরুষ: এটি সাধারণ কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ, যেখানে মধ্যপদ লোপ পায়নি। এখানে "মহান" বিশেষণ এবং "পুরুষ" বিশেষ্য হিসেবে রয়ে গেছে।
✗ গ) কুসুমের মতো কোমল = কুসুমকোমল: এটি উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ, যেখানে উপমান পদ হিসেবে "কুসুমের মতো" ব্যবহৃত হয়েছে। এখানে মধ্যপদ লোপ পায়নি।
✗ ঘ) জায়া ও পতি = দম্পতি: এটি দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ, যেখানে দুটি সমার্থক বা বিপরীতার্থক পদ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করেছে। এটি কর্মধারয় সমাস নয়।
**উৎস:**
1. বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ)
2. ভাষা শিক্ষা ব্যাকরণ (ড. হায়াৎ মামুদ)
3. বিসিএস প্রিলিমিনারি সাধারণ জ্ঞান ও বাংলা ব্যাকরণ (বিসিএস পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তুতিমূলক গ্রন্থসমূহ)