ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) ২ (দুই) নম্বর
<বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত প্রাসঙ্গিক ভূমিকা>
**মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা শহরের অবস্থান ও সেক্টর ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল। এই সেক্টর ব্যবস্থাপনা যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে করা হয়েছিল।
— ঢাকা শহর ছিল **২ নম্বর সেক্টরের** অন্তর্ভুক্ত। এই সেক্টরের প্রধান ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ (বীর উত্তম)।
— ২ নম্বর সেক্টরের অধীনে ছিল ঢাকা জেলা, নারায়ণগঞ্জ জেলা, কুমিল্লা জেলার অংশবিশেষ, ফরিদপুর জেলা, গোপালগঞ্জ জেলা এবং মাদারীপুর জেলা।
— যুদ্ধকালীন সময়ে ঢাকা শহর ছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর শক্তিশালী ঘাঁটি। তাই মুক্তিবাহিনীকে এই এলাকায় গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনা করতে হয়েছিল।
— মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান যেমন রাজারবাগ পুলিশ লাইন, পিলখানা ইপিআর সদর দপ্তর প্রভৃতি ছিল পাকিস্তানি সেনাদের নিয়ন্ত্রণে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) ৩ (তিন) নম্বর: এই সেক্টরের অধীনে ছিল চট্টগ্রাম জেলা, পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার জেলা ও ফেনী জেলা। ঢাকা শহর এই সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
✗ গ) ৪ (চার) নম্বর: এই সেক্টরের অধীনে ছিল সিলেট জেলা, মৌলভীবাজার জেলা ও হবিগঞ্জ জেলা। ঢাকা শহরের সাথে এই সেক্টরের কোনো সম্পর্ক ছিল না।
✗ ঘ) ৫ (পাঁচ) নম্বর: এই সেক্টরের অধীনে ছিল দিনাজপুর জেলা, রংপুর জেলা, বগুড়া জেলা ও পাবনা জেলা। ঢাকা শহর এই সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
উৎস:
— বাংলাদেশ সরকারের প্রকাশিত "মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র" (প্রথম খণ্ড)
— এম আর আখতার মুকুল রচিত "আমি বিজয় দেখেছি"
— বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রকাশিত "মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস"