ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) পুণ্ড্রনগর
**মহাস্থানগড় সম্পর্কিত ভূমিকা:**
বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান হলো মহাস্থানগড়। এটি বগুড়া জেলায় অবস্থিত এবং এক সময় বাংলার রাজধানী ছিল। মহাস্থানগড়ের প্রাচীন নাম ছিল পুণ্ড্রনগর, যা প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
---
**পুণ্ড্রনগর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **অবস্থান ও গুরুত্ব:** মহাস্থানগড় বর্তমান বাংলাদেশের বগুড়া জেলায় অবস্থিত। এটি প্রাচীন বাংলার একটি গুরুত্বপূর্ণ নগরী ছিল, যা পুণ্ড্র রাজ্যের রাজধানী হিসেবে পরিচিত ছিল।
— **প্রাচীন ইতিহাস:** পুণ্ড্রনগর ছিল প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্যের কেন্দ্রবিন্দু। মহাভারত, রামায়ণ, এবং প্রাচীন গ্রিক ও চৈনিক বিবরণেও পুণ্ড্র রাজ্যের উল্লেখ পাওয়া যায়।
— **প্রত্নতাত্ত্বিক খনন:** মহাস্থানগড় থেকে প্রাপ্ত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো প্রাচীন বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ সূত্র বহন করে। এখানে প্রাপ্ত শিলালিপি, মূর্তি, মুদ্রা, এবং স্থাপত্য নিদর্শনগুলো প্রাচীন বাংলার সমৃদ্ধ সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে।
— **রাজধানী হিসেবে গুরুত্ব:** মহাস্থানগড় এক সময় বাংলার রাজধানী ছিল। এটি ছিল প্রাচীন বাংলার অন্যতম প্রধান শহর, যা ব্যবসা-বাণিজ্য, ধর্ম, এবং সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।
---
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ **ক) মহাস্থান:** মহাস্থানগড়ের বর্তমান নাম মহাস্থান। এটি প্রাচীন নাম নয়, বরং বর্তমান নাম। তাই এটি সঠিক উত্তর নয়।
✗ **খ) কর্ণসুবর্ণ:** কর্ণসুবর্ণ ছিল প্রাচীন বাংলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর, যা বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলায় অবস্থিত। এটি মহাস্থানগড়ের নাম নয়।
✗ **ঘ) রামাবতী:** রামাবতী ছিল প্রাচীন বাংলার আরেকটি শহর, যা বর্তমান বাংলাদেশের নওগাঁ জেলায় অবস্থিত। এটি মহাস্থানগড়ের নাম নয়।
---
**উৎস:**
— *বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর কর্তৃক প্রকাশিত মহাস্থানগড় সম্পর্কিত প্রত্নতাত্ত্বিক প্রতিবেদন।*
— *ড. আহমেদ হাসান দানী রচিত "পুরাতত্ত্ব পরিক্রমা" গ্রন্থ।*
— *প্রাচীন বাংলার ইতিহাস সম্পর্কিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থ ও প্রবন্ধ।*