ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) করতোয়া
বাংলাদেশের প্রাচীনতম ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে অন্যতম মহাস্থানগড় সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ। এটি বাংলাদেশের বগুড়া জেলায় অবস্থিত একটি প্রাচীন নগরী, যা একসময় পুণ্ড্রবর্ধন রাজ্যের রাজধানী ছিল। মহাস্থানগড়ের অবস্থান সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রায় সব সরকারি চাকরির পরীক্ষায় আসে।
**মহাস্থানগড় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— মহাস্থানগড় বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের বগুড়া জেলায় অবস্থিত একটি প্রাচীন শহর ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান।
— এটি একসময় পুণ্ড্র রাজ্যের রাজধানী ছিল, যা প্রাচীন বাংলার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য ছিল।
— মহাস্থানগড়ের প্রাচীন নাম ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।
— এটি খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দী থেকে খ্রিস্টীয় পঞ্চদশ শতাব্দী পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
— মহাস্থানগড়ের প্রধান স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে মৌর্য যুগের দুর্গ প্রাচীর, বৈরাগীর ভিটা, গোবিন্দ ভিটা, পরশুরামের প্রাসাদ প্রভৃতি।
— মহাস্থানগড়ের দুর্গ প্রাচীর প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং আয়তাকার।
— এটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান হিসেবে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য বিবেচিত হচ্ছে।
— মহাস্থানগড়ের কাছে অবস্থিত শীলাদেবীর ঘাট নামক স্থান থেকে প্রাপ্ত শীলাদেবীর মূর্তি অত্যন্ত বিখ্যাত।
**মহাস্থানগড় কোন নদীর তীরে অবস্থিত?**
— মহাস্থানগড় করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত। করতোয়া নদীটি বর্তমান বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে প্রবাহিত একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী।
— করতোয়া নদীটি প্রাচীনকাল থেকেই এই অঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
— মহাস্থানগড়ের দুর্গ প্রাচীরের পূর্ব দিকে করতোয়া নদী প্রবাহিত হয়েছে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) গঙ্গা: গঙ্গা নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে প্রবাহিত। মহাস্থানগড় গঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত নয়।
✗ গ) ব্রহ্মপুত্র: ব্রহ্মপুত্র নদী বাংলাদেশের উত্তর-মধ্যাঞ্চলে প্রবাহিত হলেও মহাস্থানগড় ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরে অবস্থিত নয়।
✗ ঘ) মহানন্দা: মহানন্দা নদী বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে প্রবাহিত হলেও মহাস্থানগড় মহানন্দা নদীর তীরে অবস্থিত নয়।
**উৎস:**
— বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর কর্তৃক প্রকাশিত "মহাস্থানগড়" বিষয়ক প্রত্নতাত্ত্বিক গাইড।
— বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত মহাস্থানগড় সম্পর্কিত তথ্য।
— "বাংলাদেশের ইতিহাস" (প্রফেসর আবদুল করিম)।