সঠিক উত্তর: (খ) নালন্দা বিহার
**ভূমিকা:**
বাংলাদেশ ও ভারতের প্রাচীন বৌদ্ধবিহারগুলো ছিল জ্ঞানচর্চা ও ধর্মপ্রচারের প্রধান কেন্দ্র। এসব বিহারের আচার্যরা ছিলেন প্রখ্যাত বৌদ্ধ পণ্ডিত। মহাস্থবীর শিলভদ্র ছিলেন প্রাচীন ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বৌদ্ধ পণ্ডিত ও নালন্দা মহাবিহারের প্রধান আচার্য।
**মহাস্থবীর শিলভদ্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— মহাস্থবীর শিলভদ্র ছিলেন গুপ্তযুগের একজন বিখ্যাত বৌদ্ধ ভিক্ষু ও দার্শনিক।
— তিনি খ্রিস্টীয় ৫ম শতাব্দীতে (৪২৫-৫২৫ খ্রিস্টাব্দ) জীবিত ছিলেন বলে ধারণা করা হয়।
— তিনি নালন্দা মহাবিহারের প্রধান আচার্য ছিলেন এবং সেখানে বহু বৌদ্ধ ভিক্ষুকে শিক্ষাদান করেন।
— তার বিখ্যাত শিষ্যদের মধ্যে ছিলেন বিমলমিত্র ও ধর্মপাল।
— তিনি মহাযান বৌদ্ধধর্মের একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রবক্তা ছিলেন এবং তার লেখা গ্রন্থগুলো মহাযান সাহিত্যের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
— তার রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো *"অভিধর্মকোষ"* ও *"বোধিসত্ত্বভূমি-বিবরণ"*।
— তিনি চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙের লেখাতেও উল্লেখিত হয়েছেন, যিনি তাকে মহাযান বৌদ্ধধর্মের একজন শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
— তার শিক্ষাদান পদ্ধতি ও ধর্মীয় ব্যাখ্যা পরবর্তীকালে পূর্ব এশিয়ার বৌদ্ধধর্মের উপর প্রভাব ফেলেছিল।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) আনন্দ বিহার: আনন্দ বিহার ছিল একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার, তবে এটি মহাস্থবীর শিলভদ্রের সাথে সম্পর্কিত নয়। এটি মূলত বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলায় অবস্থিত ছিল।
✗ গ) গোসিপো বিহার: গোসিপো বিহার সম্পর্কে তেমন কোনো ঐতিহাসিক তথ্য পাওয়া যায় না। এটি সম্ভবত কোনো ক্ষুদ্র বিহার ছিল, যা মহাস্থবীর শিলভদ্রের সাথে যুক্ত নয়।
✗ ঘ) সোমপুর বিহার: সোমপুর বিহার (বর্তমান পাহাড়পুর বিহার) ছিল পাল রাজাদের আমলে নির্মিত একটি বিশাল বৌদ্ধ বিহার। এটি মহাস্থবীর শিলভদ্রের জীবদ্দশায় নির্মিত হয়নি এবং তিনি এর সাথে যুক্ত ছিলেন না।
**উৎস:**
— *"Ancient Buddhist Texts"* – Edward Conze
— *"Buddhist Thought in India"* – Edward Conze
— *"হিউয়েন সাঙের ভারত ভ্রমণ"* – হিউয়েন সাঙ (চীনা ভাষা থেকে অনুবাদ)
— *"বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য"* – বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর প্রকাশনা