ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) বাংলাদেশ-মায়ানমার
‘মংডু’ সম্পর্কে পরীক্ষা প্রাসঙ্গিক ভূমিকা:
বাংলাদেশের সরকারি চাকরির পরীক্ষাগুলোতে আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকা সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রায়ই আসে। এর মধ্যে ‘মংডু’ নামক স্থানটি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা হিসেবে পরিচিত। এটি বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার একটি উপজেলা এবং মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের একটি শহর।
‘মংডু’ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— **অবস্থান**: মংডু বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বান্দরবান জেলার একটি উপজেলা। এটি বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ-পূর্বের উপজেলা হিসেবে পরিচিত। একই সাথে এটি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের একটি শহর।
— **সীমান্ত এলাকা**: মংডু বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। এটি বাংলাদেশের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সাথে সংযুক্ত।
— **ভৌগোলিক গুরুত্ব**: মংডু অঞ্চলটি পার্বত্য চট্টগ্রামের অংশ হওয়ায় এর ভূপ্রকৃতি পাহাড়ি। এটি বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে বিবেচিত।
— **জনগোষ্ঠী**: এ অঞ্চলে মূলত মারমা, রাখাইন, চাকমা প্রভৃতি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক আদান-প্রদানও এখানে ঘটে থাকে।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ খ) মিয়ানমার-চীন: মংডু মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অবস্থিত হলেও এটি চীনের সীমান্ত থেকে অনেক দূরে অবস্থিত। চীনের সাথে মিয়ানমারের সীমান্ত রয়েছে উত্তরাঞ্চলের শান রাজ্যে।
✗ গ) বাংলাদেশ-ভারত: বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত এলাকা হিসেবে মংডু পরিচিত নয়। বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত মূলত উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত।
✗ ঘ) ভারত-মায়ানমার: ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্ত রয়েছে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোর সাথে, যেমন মিজোরাম, মণিপুর, নাগাল্যান্ড ও অরুণাচল প্রদেশ। মংডু এসব অঞ্চল থেকে অনেক দূরে অবস্থিত।
উৎস:
— বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS), বান্দরবান জেলার তথ্য।
— আন্তর্জাতিক সীমানা বিষয়ক বাংলাদেশ সরকারের প্রকাশিত মানচিত্র।
— ‘বাংলাদেশের ভূগোল’ (ড. মোহাম্মদ আলী চৌধুরী)।