ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) ‘পদ্মপুরাণ’
<বাংলা সাহিত্যের মঙ্গলকাব্য ধারায় মনসা দেবীকে কেন্দ্র করে রচিত উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে>
মনসা দেবীকে নিয়ে রচিত বিজয়গুপ্তের বিখ্যাত মঙ্গলকাব্য হলো ‘পদ্মপুরাণ’। এটি বাংলা সাহিত্যের মঙ্গলকাব্য ধারার একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ, যা মনসা দেবীর উপাখ্যানকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে।
---
**বিজয়গুপ্ত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— বিজয়গুপ্ত ছিলেন পঞ্চদশ শতাব্দীর একজন প্রখ্যাত কবি। তিনি ছিলেন চাঁদ সদাগরের বংশধর এবং মনসা দেবীর উপাসক।
— তার রচিত ‘পদ্মপুরাণ’ গ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যের মঙ্গলকাব্য ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। এটি মনসা দেবীর গৌরবগাথা বর্ণনা করে।
— ‘পদ্মপুরাণ’ গ্রন্থটি মূলত সংস্কৃত ‘পদ্মপুরাণ’ অবলম্বনে রচিত হলেও বাংলা ভাষায় এর অনুবাদ ও সম্প্রসারণ করেন বিজয়গুপ্ত।
— গ্রন্থটিতে মনসা দেবীর জন্ম, তার পূজা প্রচার, চাঁদ সদাগরের সাথে তার বিরোধ, এবং শেষ পর্যন্ত চাঁদ সদাগরের মনসা দেবীর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
— বিজয়গুপ্তের ভাষা ছিল সহজ-সরল ও সাবলীল, যা সাধারণ মানুষের কাছে গ্রন্থটিকে জনপ্রিয় করে তুলেছিল।
---
**মঙ্গলকাব্য ধারা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত তথ্য:**
— মঙ্গলকাব্য বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা, যা মূলত দেবদেবীর মহিমা বর্ণনা করে। এ ধারার প্রধান দেবতা হলেন মনসা, চণ্ডী, ধর্মঠাকুর প্রমুখ।
— মনসামঙ্গল কাব্য ধারায় মনসা দেবীর মহিমা বর্ণিত হয়েছে। এই ধারার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবি হলেন কানাহরি দত্ত, নারায়ণ দেব, বিপ্রদাস পিপিলাই প্রমুখ।
— বিজয়গুপ্তের ‘পদ্মপুরাণ’ ছাড়াও মনসা দেবীকে নিয়ে রচিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো বিপ্রদাস পিপিলাই রচিত ‘মনসাবিজয়’ এবং কানাহরি দত্ত রচিত ‘মনসামঙ্গল’।
---
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) ‘মনসামঙ্গল’: এটি মনসা দেবীকে নিয়ে রচিত একটি মঙ্গলকাব্য হলেও এটি বিজয়গুপ্তের রচনা নয়। এটি কানাহরি দত্তের রচনা।
✗ খ) ‘মনসাবিজয়’: এটি মনসা দেবীকে নিয়ে রচিত একটি মঙ্গলকাব্য হলেও এটি বিপ্রদাস পিপিলাইয়ের রচনা।
✗ ঘ) ‘পদ্মাবতী’: এটি আলাওলের রচিত একটি মহাকাব্য, যা পদ্মাবতী নামে পরিচিত। এটি মনসা দেবীকে নিয়ে রচিত নয়।
---
উৎস:
— বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মুহম্মদ আবদুল হাই ও আনিসুজ্জামান
— মনসামঙ্গল কাব্যের ইতিহাস, ড. দেবেশচন্দ্র সেন
— বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. সুকুমার সেন