ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) পারকিনসন
**ভূমিকা:**
মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ মস্তিষ্ক। বিভিন্ন ধরনের নিউরোট্রান্সমিটার দ্বারা মস্তিষ্কের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রিত হয়। ডোপামিন এমনই একটি নিউরোট্রান্সমিটার, যা মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে সংকেত প্রেরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ডোপামিন তৈরির কোষগুলোর ক্ষয়ক্ষতির ফলে সৃষ্ট রোগ সম্পর্কে জানা প্রতিটি চাকরিপ্রার্থীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
**পারকিনসন রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— পারকিনসন একটি দীর্ঘমেয়াদি নিউরোডিজেনারেটিভ রোগ, যা সাধারণত বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে দেখা যায়।
— এই রোগে মস্তিষ্কের **সাবস্ট্যানশিয়া নাইগ্রা** নামক অংশের **ডোপামিন উৎপাদনকারী নিউরনগুলো ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়** বা মারা যায়।
— ডোপামিনের ঘাটতির ফলে মস্তিষ্কের গতি নিয়ন্ত্রণকারী অংশগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না, যার ফলে রোগীর শরীরে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়।
— পারকিনসন রোগের প্রধান উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে:
— **কাঁপুনি (ট্রেমর)** — সাধারণত হাত ও আঙ্গুলে শুরু হয়।
— **মাংসপেশির অনমনীয়তা (রিজিডিটি)** — শরীরের বিভিন্ন অংশ শক্ত হয়ে যায়।
— **মন্থর গতি (ব্র্যাডিকাইনেসিয়া)** — চলাফেরা ও দৈনন্দিন কাজকর্ম ধীর হয়ে যায়।
— **ভারসাম্য ও সমন্বয়ের সমস্যা** — হাঁটতে গিয়ে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
— পারকিনসন রোগ নির্ণয়ের জন্য কোনো নির্দিষ্ট পরীক্ষা নেই; চিকিৎসকরা সাধারণত রোগীর উপসর্গ ও শারীরিক পরীক্ষার ভিত্তিতে রোগ নির্ণয় করেন।
— এই রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় **লেভোডোপা (L-DOPA)** নামক ওষুধ, যা ডোপামিনের ঘাটতি পূরণ করে।
— পারকিনসন রোগের কারণ হিসেবে জেনেটিক ও পরিবেশগত কারণগুলো বিবেচনা করা হয়, তবে সঠিক কারণ এখনও অজানা।
**ডোপামিন সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত তথ্য:**
— ডোপামিন একটি নিউরোট্রান্সমিটার, যা মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে সংকেত প্রেরণে সাহায্য করে।
— এটি **পুরস্কার অনুভূতি, মনোযোগ, স্মৃতি, এবং শরীরের গতি নিয়ন্ত্রণে** গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
— ডোপামিনের ঘাটতি পারকিনসন রোগের প্রধান কারণ হলেও, অতিরিক্ত ডোপামিন **সিজোফ্রেনিয়া** বা অন্যান্য মানসিক রোগের কারণ হতে পারে।
---
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ **ক) এপিলেপসি**: এপিলেপসি হলো মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপের ব্যাঘাতজনিত রোগ, যা খিঁচুনির কারণ হয়ে থাকে। এটি ডোপামিন তৈরির কোষের ক্ষতির সাথে সম্পর্কিত নয়।
✗ **গ) প্যারালাইসিস**: প্যারালাইসিস হলো শরীরের কোনো অংশের সম্পূর্ণ বা আংশিক অবশ হয়ে যাওয়া, যা সাধারণত স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতির