ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) এক-চতুর্থাংশ ধ্বংস হয়ে গেলে
মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা হ্রাসের সাথে স্নায়ু কোষের ক্ষয়ক্ষতির সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানবদেহের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অংশ হলো মস্তিষ্ক, যার কার্যক্ষমতা নির্ভর করে স্নায়ু কোষের সংখ্যা ও তাদের আন্তঃসংযোগের উপর। বয়স বৃদ্ধি, রোগ বা অন্যান্য কারণে স্নায়ু কোষ ধ্বংস হতে থাকলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে হ্রাস পায়। এই প্রক্রিয়াটি কতটুকু ক্ষয় হলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
**স্নায়ু কোষ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **সংজ্ঞা ও ভূমিকা:** স্নায়ু কোষ বা নিউরন হলো মস্তিষ্কের গঠনগত ও কার্যকরী একক। এগুলো বৈদ্যুতিক ও রাসায়নিক সংকেতের মাধ্যমে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ, স্মৃতি সংরক্ষণ, চিন্তাভাবনা এবং শরীরের বিভিন্ন অংশ নিয়ন্ত্রণ করে।
— **সংখ্যা ও ক্ষয়:** মানব মস্তিষ্কে প্রায় ৮৬ বিলিয়ন নিউরন থাকে। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে নিউরন ধ্বংস হতে থাকে। সাধারণত, একজন সুস্থ মানুষের মস্তিষ্কে নিউরনের ক্ষয় শুরু হয় প্রায় ২০ বছর বয়স থেকে, এবং তা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়।
— **ক্ষয় ও কার্যক্ষমতা:** গবেষণায় দেখা গেছে, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে যখন নিউরনের প্রায় **এক-চতুর্থাংশ (২৫%) ধ্বংস হয়ে যায়**। এর ফলে স্মৃতি হ্রাস, চিন্তাশক্তি দুর্বলতা এবং অন্যান্য জ্ঞানীয় কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটে।
— **ক্ষয় প্রতিরোধ:** নিউরনের ক্ষয় রোধে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, পর্যাপ্ত ঘুম, ব্যায়াম, সুষম খাদ্য এবং মানসিক চর্চা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ **খ) অর্ধেক ধ্বংস হয়ে গেলে:** এটি অত্যন্ত গুরুতর ক্ষয় নির্দেশ করে, যা সাধারণত মৃত্যুর কাছাকাছি অবস্থায় ঘটে। এক্ষেত্রে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা প্রায় সম্পূর্ণরূপে হারিয়ে যায়।
✗ **গ) এক-তৃতীয়াংশ বেড়ে গেলে:** নিউরনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কোনো প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া নেই। নিউরন ধ্বংসই সাধারণ ঘটনা, বৃদ্ধি নয়।
✗ **ঘ) এক-চতুর্থাংশ বেড়ে গেলে:** নিউরনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এটি সম্পূর্ণ অবাস্তব ধারণা।
উৎস:
— *Neuroscience: Exploring the Brain* – Bear, Connors, Paradiso (৪র্থ সংস্করণ)
— *Principles of Neural Science* – Kandel, Schwartz, Jessell (৫ম সংস্করণ)
— *BCS সাধারণ জ্ঞান প্রস্তুতি গাইড* – এমপি থ্রি প্রকাশনী