মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল?
ক৪ টি
খ৭ টি
গ১১ টি✓
ঘ১৪ টি
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) ১১ টি
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সামরিক কৌশল ও যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে দেশকে বিভিন্ন সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল।
**মুক্তিযুদ্ধকালীন সেক্টর ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের সময় মোট **১১টি সেক্টরে** বিভক্ত করা হয়েছিল। এই বিভাজন ছিল ১০ এপ্রিল ১৯৭১ সালে গঠিত বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী।
— প্রতিটি সেক্টরের নেতৃত্বে ছিলেন একজন করে সেক্টর কমান্ডার। তাদের অধিকাংশই ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত বা বিদ্রোহী কর্মকর্তা।
— সেক্টরগুলোকে আবার কয়েকটি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল। মোট সাব-সেক্টরের সংখ্যা ছিল **৬৪টি**।
— সেক্টরগুলো ছিল নিম্নরূপ:
১) চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম (সেক্টর কমান্ডার: মেজর জিয়াউর রহমান, পরে মেজর রফিকুল ইসলাম)
২) সিলেট (সেক্টর কমান্ডার: মেজর কেএম শফিউল্লাহ)
৩) কুমিল্লা (সেক্টর কমান্ডার: মেজর খালেদ মোশাররফ)
৪) বৃহত্তর ঢাকা ও টাঙ্গাইল (সেক্টর কমান্ডার: মেজর সি আর দত্ত)
৫) বৃহত্তর যশোর (সেক্টর কমান্ডার: মেজর মীর শওকত আলী)
৬) বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর (সেক্টর কমান্ডার: উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার)
৭) বৃহত্তর রাজশাহী ও পাবনা (সেক্টর কমান্ডার: মেজর নাজমুল হক)
৮) বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও ফরিদপুর (সেক্টর কমান্ডার: মেজর আবু ওসমান চৌধুরী)
৯) বৃহত্তর বরিশাল ও পটুয়াখালী (সেক্টর কমান্ডার: মেজর এম এ জলিল)
১০) নোয়াখালী ও কুমিল্লার অংশবিশেষ (সেক্টর কমান্ডার:Flight Lieutenant এম হামিদুল্লাহ)
১১) ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলের অংশবিশেষ (সেক্টর কমান্ডার: মেজর আবদুল জলিল)
— সেক্টরগুলোকে ভারত সরকারের সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহ করা হতো। ভারতের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো।
— ১১ নম্বর সেক্টরের অধীনে ছিল **বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর** সদস্যরা, যারা ভারতের বিভিন্ন বিমান ঘাঁটিতে প্রশিক্ষণ নিতেন।
— সেক্টরগুলোকে আরও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঞ্চলে ভাগ করে স্থানীয়ভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করা হতো। স্থানীয় যোদ্ধারা ছিল মুজিব বাহিনী নামে পরিচিত।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) ৪ টি: এটি ভুল কারণ মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বাংলাদেশকে ৪টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়নি। এটি কোনো প্রকার সামরিক বিভাজন নয়।
✗ খ) ৭ টি: এটি ভুল কারণ মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বাংলাদেশকে ৭টি সেক্টরে বিভক্ত করার কোনো প্রমাণ নেই।