ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) এগার
মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশকে কতটি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল তা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই বিভাজন যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে করা হয়েছিল।
**মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের সেক্টর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে **১১টি সেক্টরে** বিভক্ত করা হয়েছিল। এই বিভাজন করা হয়েছিল ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের অধীনে।
— প্রতিটি সেক্টরের নেতৃত্বে ছিলেন একজন করে সেক্টর কমান্ডার, যারা সরাসরি বাংলাদেশ সরকারের অধীনস্থ ছিলেন।
— সেক্টরগুলোকে আবার কয়েকটি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে।
— সেক্টরগুলো ছিল নিম্নরূপ:
১. চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম (সেক্টর ১)
২. নোয়াখালী ও কুমিল্লা জেলার অংশবিশেষ (সেক্টর ২)
৩. আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন থেকে পূর্ব দিকে কুমিল্লা জেলা ও ঢাকা জেলার অংশবিশেষ (সেক্টর ৩)
৪. সিলেট জেলা ও পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের সদর দপ্তর (সেক্টর ৪)
৫. বরিশাল, পটুয়াখালী ও খুলনা জেলার অংশবিশেষ (সেক্টর ৫)
৬. রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ (সেক্টর ৬)
৭. রাজশাহী ও পাবনা জেলার অংশবিশেষ (সেক্টর ৭)
৮. কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনা জেলার অংশবিশেষ (সেক্টর ৮)
৯. দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ (সেক্টর ৯)
১০. কুমিল্লা জেলার অংশবিশেষ (সেক্টর ১০)
১১. টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার অংশবিশেষ (সেক্টর ১১)
— সেক্টর ১০ পরবর্তীতে গঠিত হয়েছিল এবং এটি ছিল সর্বশেষ গঠিত সেক্টর।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) আট: এটি ভুল কারণ মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে সেক্টরের সংখ্যা ছিল ১১টি, ৮টি নয়।
✗ খ) দশ: এটি ভুল কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে সেক্টরের সংখ্যা ছিল ১০টি, কিন্তু পরে তা বৃদ্ধি করে ১১টি করা হয়েছিল।
✗ ঘ) পনের: এটি ভুল কারণ মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে সেক্টরের সংখ্যা কখনোই ১৫টি ছিল না।
**উৎস:**
— বাংলাদেশ সরকারের প্রকাশিত "মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র" (১ম খণ্ড)
— "মুক্তিযুদ্ধ কোষ" (বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি)
— "একাত্তরের যুদ্ধাপরাধ ও বিচার" (ড. এম এ হাসান)