ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১
মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত পর্যায়ে বুদ্ধিজীবীদের ওপর নির্মম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এই ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত।
**বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **তারিখ ও সময়কাল**: ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর রাতে এবং ১৫ ডিসেম্বর ভোর পর্যন্ত পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, লেখক, সাংবাদিক, শিল্পী ও অন্যান্য মেধাবীদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়।
— **লক্ষ্যবস্তু**: মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও অন্যান্য পেশাজীবীদের টার্গেট করা হয়েছিল। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব, ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, শহীদুল্লাহ কায়সার, মুনীর চৌধুরী, ড. ফজলে রাব্বি, আনোয়ার পাশা প্রমুখ।
— **উদ্দেশ্য**: পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগীরা চেয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের পুনর্গঠন ও উন্নয়নে যারা নেতৃত্ব দিতে পারতেন, তাদের নির্মূল করা। এছাড়া দেশকে মেধাশূন্য করে রাখার পরিকল্পনা ছিল।
— **পরিণতি**: এই হত্যাকাণ্ডের পর ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। পরবর্তীতে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
— **স্মরণ**: প্রতি বছর ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশে "শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস" হিসেবে পালিত হয়। এদিন শহীদদের স্মরণে জাতীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) ২৫ মার্চ ১৯৭১: এই তারিখে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী অপারেশন সার্চলাইট নামে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর গণহত্যা শুরু করে। এটি বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড নয়।
✗ খ) ২৬ মার্চ ১৯৭১: বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয় এই দিনে। এটি বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের সাথে সম্পর্কিত নয়।
✗ ঘ) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১: এই তারিখে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করে এবং বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। এটি বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের দিন নয়।
**উৎস:**
— বাংলাদেশ সরকার প্রণীত "মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক দলিলপত্র" (১ম খণ্ড)
— "একাত্তরের দিনগুলি" (জাহানারা ইমাম)
— "মুক্তিযুদ্ধ কোষ" (বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি)
— "বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র" (গবেষণা গ্রন্থ)