সঠিক উত্তর: (গ) উপকূলীয় বন
ম্যানগ্রোভ হলো এক ধরনের বিশেষ বনাঞ্চল যা প্রধানত লবণাক্ত পানির উপকূলীয় এলাকায় জন্মে। এই বনগুলো সামুদ্রিক পরিবেশের সাথে অভিযোজিত হওয়ায় এদের গঠন ও কার্যক্রম অন্যান্য বনের থেকে আলাদা।
**ম্যানগ্রোভ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ম্যানগ্রোভ হলো উপকূলীয় এলাকায় জন্মানো লবণ সহিষ্ণু গাছের সমষ্টি। এদের মূল প্রধানত পানির উপর ভাসমান থাকে এবং শ্বাসমূলের মাধ্যমে অক্সিজেন গ্রহণ করে।
— বিশ্বের প্রায় ১১৮টি দেশে ম্যানগ্রোভ বন রয়েছে। বাংলাদেশে সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে পরিচিত।
— ম্যানগ্রোভ বনের উদ্ভিদগুলো লবণাক্ত মাটিতে বেঁচে থাকার জন্য বিশেষ অভিযোজন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, যেমন লবণ নিঃসরণকারী গ্রন্থি বা বিশেষ ধরনের মূল ব্যবস্থা।
— ম্যানগ্রোভ বন বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রজাতির আবাসস্থল হিসেবে কাজ করে। এটি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
— ম্যানগ্রোভ বনের গাছগুলো কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করে বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) কেওড়া বন: কেওড়া গাছ ম্যানগ্রোভের একটি অংশ হতে পারে, কিন্তু পুরো ম্যানগ্রোভ বনকে কেওড়া বন বলা যায় না। ম্যানগ্রোভে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ থাকে।
✗ খ) শালবন: শালবন একটি চিরহরিৎ বনভূমি যা সাধারণত উপকূলীয় নয় এবং লবণাক্ত পরিবেশের সাথে অভিযোজিত নয়।
✗ ঘ) চিরহরিৎ বন: চিরহরিৎ বন এমন বন যেখানে গাছের পাতা সারা বছর সবুজ থাকে, কিন্তু এটি উপকূলীয় পরিবেশের সাথে সম্পর্কিত নয়। ম্যানগ্রোভ বিশেষভাবে উপকূলীয় এলাকায় জন্মে।
উৎস:
- "ম্যানগ্রোভ বন ও বাংলাদেশ" — বাংলাদেশ বন অধিদপ্তর
- "Coastal and Marine Ecosystems" — IUCN (International Union for Conservation of Nature)
- "Bangladesh Environment Conservation Rules, 1997" — বাংলাদেশ সরকার