ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) তার দু’চোখ অশ্রুতে ভেসে গেল
বাংলা ভাষার প্রয়োগগত শুদ্ধতা নির্ভর করে ব্যাকরণ ও শব্দচয়নের উপর। বিশেষ করে ক্রিয়াপদ, বিশেষণ, এবং অব্যয়ের সঠিক প্রয়োগ ভাষাকে শুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য করে তোলে।
**"তার দু’চোখ অশ্রুতে ভেসে গেল"** সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— এটি একটি **প্রবাদপ্রতিম বাংলা বাক্য**, যা অত্যন্ত আবেগপূর্ণ ও চিত্রকল্পময়।
— এখানে **"ভেসে গেল"** ক্রিয়াপদটি অত্যন্ত যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, কারণ অশ্রু প্রবাহিত হওয়ার সাথে সাথে চোখ যেন পানিতে ভাসমান অবস্থায় চলে যাচ্ছে — এমন ভাব প্রকাশ পায়।
— বাংলা ভাষায় **"ভেসে যাওয়া"** শব্দটি প্রবাহিত হওয়া, তরল পদার্থে ভাসমান হওয়া বা আবেগে আপ্লুত হওয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয়।
— এই বাক্যটি **রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়সহ** অনেক বিখ্যাত সাহিত্যিকদের লেখায় ব্যবহৃত হয়েছে।
---
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ **ক) আমি কারও সাতেও নেই, সতেরােতেও নেই।**
— এটি একটি **ভুল শব্দচয়ন ও ব্যাকরণগত ভুল**। সঠিক বাক্য হতো: *"আমি কারও সাতে নেই, সতেরোতেও নেই।"* কিন্তু এমন বাক্য বাংলা সাহিত্যে বা চলিত ভাষায় ব্যবহৃত হয় না। এটি অশুদ্ধ ও অপ্রচলিত।
✗ **খ) আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত।**
— **"স্বপরিবারে"** শব্দটি অপ্রচলিত ও অশুদ্ধ। সঠিক শব্দ হলো **"পরিবারসহ"** বা **"পরিবারের সদস্য সহ"**। বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা অভিধানেও **"স্বপরিবারে"** শব্দটি নেই।
✗ **ঘ) সারা জীবন ভূতের মজুরি খেটে মরলাম ।**
— **"ভূতের মজুরি"** একটি **প্রবাদ**, যার অর্থ হলো **বিনিময়ে কিছু না পাওয়া** বা **নিরর্থক পরিশ্রম করা**। কিন্তু বাক্যটি পুরোপুরি অশুদ্ধ নয়, তবে এটি একটি **অপ্রচলিত ও অপ্রমিত বাক্যরীতি**। সাধারণত এ ধরনের প্রবাদকে সরাসরি বাক্যে ব্যবহার না করে অন্য ভঙ্গিতে বলা হয়। যেমন: *"ভূতের মজুরি খেটে জীবন শেষ করলাম।"*
---
উৎস:
1. বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা অভিধান (২০১৬ সংস্করণ)
2. বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন গ্রন্থ (রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, শরৎচন্দ্র)
3. বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্ন ব্যাংক ও ব্যাকরণ গ্রন্থ (ড. হায়াৎ মামুদ, ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়)