ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) এস ওয়াজেদ আলি
‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলন সম্পর্কে পরীক্ষা-প্রাসঙ্গিক ভূমিকা:
বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাসে ‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রগতিশীল ধারা হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৯২৬ সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ নামক সংগঠনের মাধ্যমে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। ধর্মীয় গোঁড়ামি ও সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে যুক্তিবাদ ও মানবতাবাদ প্রতিষ্ঠাই ছিল এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার বিকাশে এই আন্দোলনের অবদান অনস্বীকার্য।
‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— **কাজী আবদুল ওদুদ**: তিনি ছিলেন মুসলিম সাহিত্য সমাজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উদ্যোক্তা। তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হতো ‘শিখা’ নামক পত্রিকা, যা ছিল এই আন্দোলনের মুখপত্র। তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত সাহিত্যিক, চিন্তাবিদ ও শিক্ষাবিদ।
— **আবুল ফজল**: তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ সংস্কারক। তার রচিত গ্রন্থসমূহে যুক্তিবাদ, মানবতাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ প্রকাশ পেয়েছে। তিনি মুসলিম সাহিত্য সমাজের সদস্য ছিলেন এবং ‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন।
— **আবদুল কাদির**: তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত কবি, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ। তার রচনায় যুক্তিবাদ ও মানবতাবাদ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়। তিনি মুসলিম সাহিত্য সমাজের সদস্য ছিলেন এবং এই আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
— **এস ওয়াজেদ আলি**: তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক। তবে তিনি ‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলনের সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না। তার প্রধান অবদান ছিল শিক্ষা ও সাহিত্য ক্ষেত্রে। তিনি ছিলেন একজন স্বাধীনচেতা চিন্তাবিদ, কিন্তু মুসলিম সাহিত্য সমাজের সদস্য হিসেবে তার নাম উল্লেখ করা হয় না।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) কাজী আবদুল ওদুদ: তিনি ছিলেন ‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।
✗ গ) আবুল ফজল: তিনি ছিলেন মুসলিম সাহিত্য সমাজের সদস্য এবং এই আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী।
✗ ঘ) আবদুল কাদির: তিনি ছিলেন মুসলিম সাহিত্য সমাজের সদস্য এবং এই আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
উৎস:
— মুহম্মদ আবদুল হাই ও আনিসুজ্জামান সম্পাদিত ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত’ (আধুনিক যুগ), বাংলা একাডেমি।
— আবুল ফজলের ‘রেখাচিত্র’, সাহিত্য প্রকাশ।
— কাজী আবদুল ওদুদের ‘শিখা’, মুসলিম সাহিত্য সমাজ।
— বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (বিভিন্ন সংস্করণ), বিভিন্ন লেখক।