ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) গাজীপুর
**ভূমিকা:**
বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক গঠনে বিভিন্ন ধরনের ভূমিরূপ রয়েছে, যার মধ্যে চত্বরভূমি একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্লাস্টোসিন চত্বরভূমি হলো এমন একটি ভূমিরূপ যা হিমালয় থেকে আগত নদীবাহিত পলি দ্বারা গঠিত। এই ধরনের ভূমিরূপ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা গেলেও গাজীপুর জেলায় এর উপস্থিতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
**প্লাস্টোসিন চত্বরভূমি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **ভূতাত্ত্বিক সময়কাল:** প্লাস্টোসিন হলো ভূতাত্ত্বিক সময়ের একটি যুগ যা প্রায় ২.৫৮ মিলিয়ন বছর পূর্ব থেকে শুরু হয়ে প্রায় ১১,৭০০ বছর পূর্ব পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। এই সময়কালে হিমালয় থেকে আগত নদীবাহিত পলি দ্বারা বাংলাদেশের ভূমিরূপ গঠিত হয়।
— **গঠন প্রক্রিয়া:** প্লাস্টোসিন চত্বরভূমি মূলত হিমালয় থেকে আগত প্রধান প্রধান নদী যেমন পদ্মা, মেঘনা, যমুনা প্রভৃতির মাধ্যমে বাহিত পলি দ্বারা গঠিত। এই পলি জমা হয়ে সমতল ভূমিরূপ তৈরি করে।
— **বাংলাদেশে অবস্থান:** বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চলের মধ্যে গাজীপুর জেলা প্লাস্টোসিন চত্বরভূমির অন্তর্ভুক্ত। এটি মূলত বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত এবং এর ভূমিরূপ তুলনামূলকভাবে সমতল।
— **বৈশিষ্ট্য:** প্লাস্টোসিন চত্বরভূমির বৈশিষ্ট্য হলো এখানে পলিমাটির প্রাধান্য রয়েছে, যা কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এছাড়া এই অঞ্চলে ভূমিকম্পের ঝুঁকিও তুলনামূলকভাবে কম।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ **ক) চাঁদপুর:** চাঁদপুর জেলা মূলত মেঘনা নদীর অববাহিকায় অবস্থিত এবং এটি প্লাইস্টোসিন চত্বরভূমির অন্তর্ভুক্ত নয়। এখানকার ভূমিরূপ মূলত সাম্প্রতিককালের পলল দ্বারা গঠিত।
✗ **খ) পিরোজপুর:** পিরোজপুর জেলা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত এবং এটি মূলত গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। এখানেও প্লাইস্টোসিন চত্বরভূমির উপস্থিতি নেই।
✗ **গ) মাদারীপুর:** মাদারীপুর জেলা মধ্যাঞ্চলের একটি জেলা হলেও এটি মূলত গঙ্গা নদীর প্লাবনভূমির অন্তর্ভুক্ত। এখানেও প্লাইস্টোসিন চত্বরভূমির উপস্থিতি নেই।
**উৎস:**
— ভূগোল ও পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সরকার। *বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চলসমূহ।*
— ইসলাম, এম. এম. *বাংলাদেশের ভূগোল।*
— ভূতত্ত্ব অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সরকার। *বাংলাদেশের ভূতাত্ত্বিক মানচিত্র।*