সঠিক উত্তর: (গ) তিতাস
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্র সম্পর্কিত সাধারণ জ্ঞানের ভূমিকা:
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রাকৃতিক গ্যাস একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পখাতে গ্যাসের ব্যবহার ব্যাপক। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ গ্যাস ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত তিতাস গ্যাসক্ষেত্রটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
তিতাস গ্যাসক্ষেত্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— তিতাস গ্যাসক্ষেত্রটি বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার তিতাস উপজেলায় অবস্থিত।
— এই গ্যাসক্ষেত্রটি ১৯৬২ সালে আবিষ্কৃত হয় এবং ১৯৬৮ সালে উৎপাদন শুরু করে।
— তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের মোট গ্যাস মজুদ প্রায় ১.৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (TCF)। বর্তমানে এটি থেকে দৈনিক প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হয়।
— তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রায় ২৫% গ্যাস সরবরাহ করা হয়।
— এই গ্যাসক্ষেত্রটি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (BAPEX) দ্বারা পরিচালিত হয়।
— তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের সাথে যুক্ত রয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (TGTDCL), যা গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) বাখরাবাদ: বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। এটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অবস্থিত এবং এর মোট গ্যাস মজুদ প্রায় ১.১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট।
✗ খ) হরিপুর: হরিপুর গ্যাসক্ষেত্রটি বাংলাদেশের প্রাচীনতম গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মধ্যে একটি। এটি সিলেট জেলায় অবস্থিত এবং এর মোট গ্যাস মজুদ প্রায় ০.৬ ট্রিলিয়ন ঘনফুট।
✗ ঘ) হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্রটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসক্ষেত্র। এটি হবিগঞ্জ জেলায় অবস্থিত এবং এর মোট গ্যাস মজুদ প্রায় ০.৮ ট্রিলিয়ন ঘনফুট।
উৎস:
— বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (BAPEX) এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
— "বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ" — বাংলাদেশ সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
— "Energy and Mineral Resources of Bangladesh" — Bangladesh Geological Survey.