ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) বায়োগ্যাস
জীবাশ্ম জ্বালানি সম্পর্কিত প্রাথমিক ধারণা:
জীবাশ্ম জ্বালানি হলো প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট জ্বালানি যা ভূগর্ভস্থ প্রাচীন জীবাশ্ম থেকে তৈরি হয়। এগুলো কয়েক মিলিয়ন বছর ধরে ভূগর্ভস্থ চাপ ও তাপের মাধ্যমে গঠিত হয়। জীবাশ্ম জ্বালানির প্রধান উৎস হলো প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা ও পেট্রোলিয়াম। এগুলো পুড়িয়ে শক্তি উৎপন্ন করা হয়। অন্যদিকে, বায়োগ্যাস হলো জীবন্ত জীবাণু বা জৈব পদার্থের অবাত পচনের ফলে উৎপন্ন গ্যাস, যা জীবাশ্ম জ্বালানি নয়।
**জীবাশ্ম জ্বালানি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **পেট্রোলিয়াম**: ভূগর্ভস্থ তরল জীবাশ্ম জ্বালানি, যা প্রধানত হাইড্রোকার্বন দ্বারা গঠিত। এটি পরিশোধন করে পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন ইত্যাদি জ্বালানি উৎপন্ন করা হয়।
— **কয়লা**: ভূগর্ভস্থ কঠিন জীবাশ্ম জ্বালানি, যা প্রধানত কার্বন দ্বারা গঠিত। এটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত হয়।
— **প্রাকৃতিক গ্যাস**: ভূগর্ভস্থ গ্যাসীয় জীবাশ্ম জ্বালানি, যা প্রধানত মিথেন গ্যাস দ্বারা গঠিত। এটি ঘরবাড়িতে রান্না ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।
— **জীবাশ্ম জ্বালানির গঠন প্রক্রিয়া**: প্রাচীন উদ্ভিদ ও প্রাণীর অবশেষ ভূগর্ভস্থ চাপ ও তাপের মাধ্যমে কয়েক মিলিয়ন বছরে জীবাশ্ম জ্বালানিতে পরিণত হয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ **ক) পেট্রোলিয়াম**: এটি একটি জীবাশ্ম জ্বালানি, কারণ এটি ভূগর্ভস্থ প্রাচীন জীবাশ্ম থেকে তৈরি হয়।
✗ **খ) কয়লা**: এটি একটি জীবাশ্ম জ্বালানি, কারণ এটি ভূগর্ভস্থ প্রাচীন উদ্ভিদের অবশেষ থেকে তৈরি হয়।
✗ **গ) প্রাকৃতিক গ্যাস**: এটি একটি জীবাশ্ম জ্বালানি, কারণ এটি ভূগর্ভস্থ প্রাচীন জীবাশ্ম থেকে তৈরি হয়।
উৎস:
— "Energy Resources" by Paul Kruger (Pearson Education)
— "Fossil Fuels" by World Energy Council
— বাংলাদেশ সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রকাশিত তথ্য