ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) ১৮৪৭-১৯১১
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান সাহিত্যিক ও মুসলিম রেনেসাঁর পুরোধা ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত মীর মশাররফ হোসেনের জীবনকাল সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর জন্ম ও মৃত্যু সাল বাংলাদেশের ইতিহাস ও সাহিত্য পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
**মীর মশাররফ হোসেন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— তিনি ১৮৪৭ সালের ১৩ই নভেম্বর (১২৫৪ বঙ্গাব্দের কার্তিক মাসের ১ তারিখ) তৎকালীন যশোর জেলার কুমারখালী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
— তাঁর পিতার নাম ছিল মীর আবদুল আলী এবং মাতার নাম ছিল দৌলতুন্নেছা।
— তিনি ছিলেন একজন মুসলিম লেখক যিনি বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সমাজের চিন্তা-চেতনা ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরেছেন।
— তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে "বিষাদ সিন্ধু" (১৮৮৫-১৮৯১), "জমিদার দর্পণ" (১৮৭৩), "গাজী মিয়ার বস্তানী" (১৮৯৯), "উদাসীন পথিকের মনের কথা" (১৮৯০) ইত্যাদি।
— তিনি বাংলা সাহিত্যে প্রথম মুসলিম লেখক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন এবং মুসলিম সমাজের সংস্কার ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
— তাঁর সাহিত্যকর্মে মুসলিম জীবনের সুখ-দুঃখ, ধর্মীয় অনুভূতি ও সামাজিক সমস্যার প্রতিফলন ঘটেছে।
— তিনি ১৯১১ সালের ১৯শে ডিসেম্বর (১৩১৮ বঙ্গাব্দের পৌষ মাসের ৪ তারিখ) কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।
— তাঁকে বাংলা সাহিত্যের মুসলিম রেনেসাঁর অগ্রদূত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) ১৮৫২-১৯১২: এই সাল দুটি মীর মশাররফ হোসেনের জীবনকালের সাথে মিলে না। তিনি ১৮৪৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯১১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
✗ গ) ১৮৫৭-১৯১১: এই সাল দুটি তাঁর জীবনকালের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর জন্ম সাল ১৮৪৭, ১৮৫৭ নয়।
✗ ঘ) ১৮৪৭-১৯১২: মৃত্যু সালটি ভুল। তিনি ১৯১১ সালে মৃত্যুবরণ করেন, ১৯১২ সালে নয়।
**উৎস:**
— বাংলা একাডেমী প্রকাশিত "মীর মশাররফ হোসেন রচনাবলী" (প্রথম খণ্ড)
— "বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস" — মুহম্মদ আবদুল হাই ও আনিসুজ্জামান
— "মীর মশাররফ হোসেন স্মারকগ্রন্থ" — বাংলা একাডেমী