ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) রূপা
বিদ্যুৎ পরিবাহিতা সম্পর্কিত সরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই আসা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিভিন্ন ধাতু ও পদার্থের বিদ্যুৎ পরিবাহিতা নির্ভর করে তাদের পারমাণবিক গঠন, ইলেকট্রনের গতিশীলতা এবং তাপমাত্রার উপর। এই প্রশ্নের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের ধাতুর বিদ্যুৎ পরিবাহিতা সম্পর্কে মৌলিক ধারণা যাচাই করা হয়।
**রূপা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— রূপা (Ag) একটি রূপালি-সাদা বর্ণের ধাতু, যা প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
— এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ পরিবাহী ধাতু। এর বিদ্যুৎ পরিবাহিতা প্রায় **৬৩ × ১০⁶ সিমেন্স/মিটার** (S/m)।
— রূপার উচ্চ বিদ্যুৎ পরিবাহিতার কারণ হলো এর পারমাণবিক গঠনে মুক্ত ইলেকট্রনের উচ্চ ঘনত্ব এবং কম প্রতিরোধ ক্ষমতা।
— রূপা ব্যবহৃত হয় বৈদ্যুতিক তার, ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রাংশ, মুদ্রা, গহনা এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরিতে।
— রূপার প্রতীক **Ag** (ল্যাটিন *Argentum* থেকে উদ্ভূত) এবং পারমাণবিক সংখ্যা **৪৭**।
— এটি অত্যন্ত নমনীয় এবং প্রসারণশীল ধাতু, যা সহজেই তার বা পাতলা ফয়েলে রূপান্তর করা যায়।
---
**তামা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— তামা (Cu) একটি লালচে-বাদামী বর্ণের ধাতু, যা প্রকৃতিতে খনিজ হিসেবে পাওয়া যায়।
— এর বিদ্যুৎ পরিবাহিতা প্রায় **৫৯.৬ × ১০⁶ সিমেন্স/মিটার** (S/m), যা রূপার তুলনায় সামান্য কম।
— তামা ব্যবহৃত হয় বৈদ্যুতিক তার, ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রাংশ, পাইপলাইন এবং মুদ্রা তৈরিতে।
— তামার প্রতীক **Cu** এবং পারমাণবিক সংখ্যা **২৯**।
— এটি সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না এবং উচ্চ তাপমাত্রায়ও ভালো পরিবাহিতা বজায় রাখে।
---
**সোনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— সোনা (Au) একটি হলুদ বর্ণের মূল্যবান ধাতু, যা প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
— এর বিদ্যুৎ পরিবাহিতা প্রায় **৪৫.২ × ১০⁶ সিমেন্স/মিটার** (S/m), যা তামা এবং রূপার তুলনায় কম।
— সোনা ব্যবহৃত হয় গহনা, মুদ্রা, ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রাংশ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরিতে।
— সোনার প্রতীক **Au** (ল্যাটিন *Aurum* থেকে উদ্ভূত) এবং পারমাণবিক সংখ্যা **৭৯**।
— এটি অত্যন্ত নমনীয় এবং ক্ষয় প্রতিরোধী ধাতু।
---
**কার্বন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— কার্বন (C) একটি অধাতু, যা প্রকৃতিতে বিভিন্ন রূপে (গ্রাফাইট, হীরা, কয়লা ইত্যাদি) পাওয়া যায়।
— এর বিদ্যুৎ পরিবাহিতা নির্ভর করে এর গঠনের উপর। গ্রাফাইটের বিদ্যুৎ পরিবাহিতা প্রায় **৩ × ১০⁵ সিমেন্স/মিটার** (S/m), যা ধাতুর তুলনায় অনেক কম।
— কার্বন ব্যবহৃত হয় ইস্পাত তৈরিতে, ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রাংশ