ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) রূপা
বিদ্যুৎ পরিবাহিতা হলো কোনো পদার্থের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হওয়ার ক্ষমতা। বিভিন্ন ধাতুর বিদ্যুৎ পরিবাহিতা ভিন্ন ভিন্ন। সরকারি চাকরির পরীক্ষাগুলোতে সাধারণ জ্ঞান অংশে বিদ্যুৎ পরিবাহিতা সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
**রূপা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— রূপা (Ag) একটি চকচকে ধাতু, যা প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায়ও পাওয়া যায়।
— রূপার বিদ্যুৎ পরিবাহিতা সবচেয়ে বেশি, যার মান প্রায় **৬৩ × ১০⁶ সিমেন্স/মিটার**।
— রূপা তাপ পরিবাহিতাতেও সর্বোচ্চ, যা প্রায় **৪৩০ ওয়াট/মিটার-কেলভিন**।
— রূপা ব্যবহৃত হয় বিদ্যুৎ সংযোগকারী তার, মুদ্রা, গহনা ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ তৈরিতে।
— রূপা সহজেই অক্সিডাইজড হয় না, তাই এটি দীর্ঘস্থায়ী।
**তামা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— তামা (Cu) একটি লালচে-বাদামী ধাতু, যা বিদ্যুৎ পরিবাহিতায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
— তামার বিদ্যুৎ পরিবাহিতা প্রায় **৫৯.৬ × ১০⁶ সিমেন্স/মিটার**।
— তামা সহজলভ্য ও তুলনামূলকভাবে সস্তা হওয়ায় বিদ্যুৎ তার হিসেবে বেশি ব্যবহৃত হয়।
— তামা ব্যবহৃত হয় বৈদ্যুতিক তার, ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ ও মুদ্রা তৈরিতে।
**সোনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— সোনা (Au) একটি মূল্যবান ধাতু, যা বিদ্যুৎ পরিবাহিতায় তামার চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে।
— সোনার বিদ্যুৎ পরিবাহিতা প্রায় **৪৫.২ × ১০⁶ সিমেন্স/মিটার**।
— সোনা অক্সিডাইজড হয় না এবং ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না, তাই ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশে ব্যবহৃত হয়।
— সোনা ব্যবহৃত হয় গহনা, মুদ্রা ও ইলেকট্রনিক সংযোগকারী হিসেবে।
**কার্বন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— কার্বন (C) একটি অধাতু, যা বিদ্যুৎ পরিবাহিতায় ধাতুগুলোর তুলনায় অনেক কম।
— কার্বনের বিদ্যুৎ পরিবাহিতা প্রায় **০.০০৬ × ১০⁶ সিমেন্স/মিটার** (গ্রাফাইট রূপে কিছুটা বেশি)।
— কার্বন ব্যবহৃত হয় ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ, ব্যাটারি ও গ্রাফাইট ইলেকট্রোড হিসেবে।
---
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) তামা: তামা বিদ্যুৎ পরিবাহিতায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে, কিন্তু রূপার তুলনায় কম।
✗ গ) সোনা: সোনা বিদ্যুৎ পরিবাহিতায় তামার চেয়েও কম, তবে ক্ষয়প্রতিরোধী।
✗ ঘ) কার্বন: কার্বন বিদ্যুৎ পরিবাহিতায় ধাতুগুলোর তুলনায় অনেক কম।
---
**উৎস:**
- *Introduction to Solid State Physics* – Charles Kittel
- *CRC Handbook of Chemistry and Physics*
- বিভিন্ন সরকারি চাকরির প্রশ্নব্যাংক (BCS, Bank, Primary)