ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) ইউ-আকৃতির উপত্যকা
হিমবাহের ক্ষয় কার্যের ফলে গঠিত ভূমিরূপ সম্পর্কিত প্রশ্ন।
**ইউ-আকৃতির উপত্যকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ইউ-আকৃতির উপত্যকা মূলত হিমবাহের ক্ষয় কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ।
— হিমবাহ যখন উচ্চভূমি থেকে নিম্নভূমির দিকে প্রবাহিত হয়, তখন এর ভারী ও শক্তিশালী বরফ উপত্যকার দুই পাশ ও তলদেশকে ক্ষয় করে।
— ক্ষয়ের ফলে উপত্যকাটি ইংরেজি 'U' অক্ষরের মতো প্রশস্ত ও গভীর হয়ে ওঠে, যা ইউ-আকৃতির উপত্যকা নামে পরিচিত।
— ইউ-আকৃতির উপত্যকা সাধারণত পার্বত্য অঞ্চলে দেখা যায়, যেমন হিমালয়, আল্পস, রকি পর্বতমালায়।
— এটি গঠনে হিমবাহের ক্ষয় (Abrasion) ও উত্তোলন (Plucking) প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
**পার্শ্ব গ্রাবরেখা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— পার্শ্ব গ্রাবরেখা হলো হিমবাহের দুই পাশে সঞ্চিত পাথর, বালি ও কর্দমের স্তূপ।
— এটি হিমবাহের সঞ্চয় কার্যের ফলে গঠিত হয়, ক্ষয় কার্যের ফলে নয়।
— পার্শ্ব গ্রাবরেখা হিমবাহের প্রবাহপথের দুই পার্শ্বে স্তূপাকারে জমা হয়।
**শৈলশিলা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— শৈলশিলা হলো হিমবাহের প্রবাহপথে অবস্থিত শক্তিশালী শিলাখণ্ড যা হিমবাহের ক্ষয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মসৃণ ও চকচকে হয়ে ওঠে।
— এটি ক্ষয় কার্যের ফলে গঠিত হলেও এটি কোনো ভূমিরূপ নয়, বরং ক্ষয়িত শিলাখণ্ড।
— শৈলশিলা দেখতে মসৃণ ও দীর্ঘায়িত হয়, যা হিমবাহের প্রবাহ নির্দেশ করে।
**ভি-আকৃতির উপত্যকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ভি-আকৃতির উপত্যকা হলো নদীর ক্ষয় কার্যের ফলে গঠিত ভূমিরূপ।
— নদীর প্রবাহপথে ক্ষয় প্রক্রিয়ার ফলে উপত্যকাটি ইংরেজি 'V' অক্ষরের মতো সংকীর্ণ ও গভীর হয়ে ওঠে।
— এটি সাধারণত পার্বত্য অঞ্চলে দেখা যায়, যেখানে নদীর প্রবাহ শক্তিশালী থাকে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) পার্শ্ব গ্রাবরেখা: এটি হিমবাহের সঞ্চয় কার্যের ফলে গঠিত হয়, ক্ষয় কার্যের ফলে নয়।
✗ খ) শৈলশিলা: এটি ক্ষয় কার্যের ফলে গঠিত হলেও এটি কোনো ভূমিরূপ নয়, বরং ক্ষয়িত শিলাখণ্ড।
✗ গ) ভি-আকৃতির উপত্যকা: এটি নদীর ক্ষয় কার্যের ফলে গঠিত ভূমিরূপ, হিমবাহের নয়।
**উৎস:**
— ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান (৯ম-১০ম শ্রেণি), জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ।
— ভূগোল ও পরিবেশ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ।
— ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক।