ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) মায়ানমার
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমানা সম্পর্কিত ভূমিকা:
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি ভূ-বেষ্টিত দেশ হলেও এর চারদিকে রয়েছে ভারত ও মায়ানমার নামক দুইটি দেশ। দেশটির মোট সীমান্ত দৈর্ঘ্য প্রায় ৫,১৩৮ কিলোমিটার। এর মধ্যে ভারতের সাথে সীমান্ত দৈর্ঘ্য প্রায় ৪,১৫৬ কিলোমিটার এবং মায়ানমারের সাথে প্রায় ২৭১ কিলোমিটার। এই সীমান্তগুলো বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করে।
মায়ানমার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— মায়ানমার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ, যার পূর্ব নাম ছিল বার্মা। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম দেশগুলির মধ্যে অন্যতম।
— দেশটির রাজধানী হল নেপিডো এবং বৃহত্তম শহর হল ইয়াঙ্গুন (রেঙ্গুন)।
— মায়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগের পার্বত্য জেলাগুলোর সাথে।
— বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মায়ানমারের রাজ্যগুলো হল রাখাইন রাজ্য (পূর্বে আরাকান নামে পরিচিত) এবং চিন রাজ্য।
— দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক সীমানা নির্ধারিত হয়েছে। বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে শুরু করে উত্তর দিকে বান্দরবান জেলার কিছু অংশ পর্যন্ত মায়ানমারের সাথে সীমান্ত রয়েছে।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) চীন: চীন বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত হলেও দেশটির সাথে বাংলাদেশের কোনো আন্তর্জাতিক সীমানা নেই। চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে সীমান্ত রয়েছে ভারত ও ভুটানের সাথে।
✗ খ) পাকিস্তান: পাকিস্তান দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশ হলেও এটি বাংলাদেশের পশ্চিম দিকে অবস্থিত। দেশ দুটির মধ্যে কোনো সীমান্ত নেই। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে সীমান্ত রয়েছে ভারতের সাথে।
✗ গ) থাইল্যান্ড: থাইল্যান্ড দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ হলেও এটি বাংলাদেশের পূর্ব দিকে অবস্থিত। দেশ দুটির মধ্যে কোনো আন্তর্জাতিক সীমানা নেই। থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশের মধ্যে সীমান্ত রয়েছে মায়ানমারের সাথে।
উৎস:
— বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আন্তর্জাতিক সীমানা সম্পর্কিত তথ্য।
— "বাংলাদেশের ভূগোল" — ড. মোহাম্মদ শাহজাহান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
— "South Asia Geopolitics" — বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক প্রকাশনা।