নিম্নের কোন পত্রিকাটির প্রকাশনা উপলক্ষ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আশীর্বাণী পাঠিয়েছিলেন?
কসবুজপত্র
খশনিবারের চিঠি
গকল্লোল
ঘধূমকেতু✓
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) ধূমকেতু
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে সাময়িক পত্রিকা প্রকাশনা ও সাহিত্য আন্দোলনের সাথে জড়িত বিভিন্ন পত্রিকার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা ও সামাজিক-রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিফলন ঘটেছিল বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকার মাধ্যমে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো মহান কবি ও সাহিত্যিকও এসব পত্রিকার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন।
**ধূমকেতু পত্রিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **প্রকাশকাল ও প্রতিষ্ঠাতা**: ধূমকেতু ছিল একটি বিপ্লবী ও জাতীয়তাবাদী সাহিত্য পত্রিকা। এটি ১৯২২ সালের ১১ আগস্ট কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। এর সম্পাদক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম।
— **উদ্দেশ্য ও বৈশিষ্ট্য**: ধূমকেতু ছিল মূলত একটি রাজনৈতিক ও সাহিত্যিক পত্রিকা। এর মাধ্যমে কাজী নজরুল ইসলাম ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনকে সাহিত্যের মাধ্যমে তুলে ধরেন। পত্রিকাটির নামকরণ করা হয়েছিল ধূমকেতুর মতোই বিপ্লবী ও ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলার প্রতীক হিসেবে।
— **রবীন্দ্রনাথের আশীর্বাণী**: ধূমকেতুর প্রথম সংখ্যার প্রকাশ উপলক্ষ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একটি আশীর্বাণী পাঠিয়েছিলেন। এই আশীর্বাণীতে তিনি ধূমকেতুর বিপ্লবী আদর্শকে সমর্থন করেন এবং কাজী নজরুল ইসলামের প্রতিভাকে স্বাগত জানান। রবীন্দ্রনাথের এই আশীর্বাণী পত্রিকাটির গুরুত্বকে বহুগুণ বৃদ্ধি করে।
— **প্রভাব ও অবদান**: ধূমকেতু পত্রিকার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা হয়। এর বিপ্লবী চেতনা পরবর্তীকালে বাংলা সাহিত্য ও রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। পত্রিকাটি ব্রিটিশ সরকারের বিরাগভাজন হয় এবং শেষ পর্যন্ত সরকারি নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ **ক) সবুজপত্র**: সবুজপত্র ছিল বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাময়িক পত্রিকা। এটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয় এবং বাংলা সাহিত্যে নতুন গদ্যরীতি প্রবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে রবীন্দ্রনাথের আশীর্বাণী প্রাপ্তির সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
✗ **খ) শনিবারের চিঠি**: শনিবারের চিঠি ছিল একটি ব্যঙ্গাত্মক ও হাস্যরসাত্মক পত্রিকা। এটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয় এবং বাংলা সাহিত্যে ব্যঙ্গ সাহিত্যের ধারাকে সমৃদ্ধ করে। তবে রবীন্দ্রনাথের আশীর্বাণী প্রাপ্তির সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
✗ **গ) কল্লোল**: কল্লোল ছিল বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাময়িক পত্রিকা। এটি ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয় এবং বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা করে। তবে রবীন্দ্রনাথের আশীর্বাণী প্রাপ্তির সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
উৎস:
— কাজী নজরুল ইসলাম রচনাবলী (বিভিন্ন খণ্ড), বাংলা একাডেমি।
— বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড