ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) নড়িয়া
<বাংলাদেশের নদীভাঙ্গন-প্রবণ অঞ্চল সম্পর্কিত ভূমিকা>
বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক গঠনের কারণে দেশটির অধিকাংশ অঞ্চলই নদীভাঙ্গনের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে পদ্মা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা প্রভৃতি প্রধান নদীগুলোর তীরবর্তী এলাকায় প্রতি বছর ব্যাপক ভূমিক্ষয় ও নদীভাঙ্গন দেখা যায়। এর ফলে জনবসতি, কৃষিজমি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়।
**নড়িয়া উপজেলা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— নড়িয়া বাংলাদেশের শরীয়তপুর জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। এটি পদ্মা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত।
— পদ্মা নদীর ভাঙ্গনের কারণে নড়িয়া উপজেলাটি দেশের অন্যতম নদীভাঙ্গন-প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত।
— প্রতি বছরই পদ্মার ভাঙ্গনে নড়িয়া উপজেলার ব্যাপক ভূমিক্ষয় হয়। স্থানীয় জনগণকে বারবার পুনর্বাসিত হতে হয়।
— সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শরীয়তপুর জেলার অন্যান্য উপজেলার তুলনায় নড়িয়ায় নদীভাঙ্গনের হার সবচেয়ে বেশি।
— পদ্মা নদীর ভাঙ্গনের ফলে নড়িয়া উপজেলার প্রায় ৩০-৪০% ভূমি ইতোমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) বােয়ালমারী: বরিশাল জেলার একটি উপজেলা। এটি প্রধানত কৃষিপ্রধান অঞ্চল হলেও নদীভাঙ্গনের হার তুলনামূলক কম।
✗ গ) আলমডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গা জেলার একটি উপজেলা। এটি পদ্মা বা যমুনার তীরবর্তী নয়, তাই নদীভাঙ্গনের ঝুঁকি কম।
✗ ঘ) নিকলি: কিশোরগঞ্জ জেলার একটি উপজেলা। এটি মেঘনা নদীর তীরবর্তী হলেও নদীভাঙ্গনের হার নড়িয়ার তুলনায় কম।
উৎস:
- বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) কর্তৃক প্রকাশিত "নদীভাঙ্গন ও ভূমিক্ষয় সংক্রান্ত প্রতিবেদন" (২০২০-২০২৩)
- শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন (২০২২)
- দৈনিক প্রথম আলো ও কালের কণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত নদীভাঙ্গন বিষয়ক প্রতিবেদনসমূহ