ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘ পূর্ব-পশ্চিম’
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধোত্তর সময়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে রচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস হলো সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘পূর্ব-পশ্চিম’।
‘পূর্ব-পশ্চিম’ উপন্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— এটি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত একটি মহাকাব্যিক উপন্যাস, যা ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত হয়।
— উপন্যাসটির মূল উপজীব্য হলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ (১৯৭১) এবং তার পরবর্তী সময়ের ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, উদ্বাস্তু সমস্যা, সাম্প্রদায়িকতা ও মানবিক সংকট।
— উপন্যাসটি তিনটি ভিন্ন সময়কাল ও অঞ্চলের মানুষের জীবনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে: পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ), পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্ব জার্মানি।
— চরিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে উদ্বাস্তু পরিবার, রাজনৈতিক নেতা, সাধারণ মানুষ যারা যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে নিজেদের জীবন পুনর্গঠনের চেষ্টা করে।
— উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধোত্তর বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা, শরণার্থী সমস্যা এবং মানুষের মানসিক যন্ত্রণাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
— এটি শুধু একটি উপন্যাস নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়।
— উপন্যাসটির জন্য সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) দেবেশ রায়ের ‘তিস্তাপাড়ের বৃত্তান্ত’: এটি দেবেশ রায়ের একটি উপন্যাস হলেও এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধোত্তর সময়ের চিত্র অঙ্কিত নয়, বরং এটি উত্তরবঙ্গের তিস্তাপাড় অঞ্চলের মানুষের জীবন নিয়ে রচিত।
✗ গ) শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ‘যাও পাখি’: এটি শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের একটি উপন্যাস হলেও এটি মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে রচিত একটি সাহিত্যকর্ম।
✗ ঘ) অভিজিৎ সেনের ‘রহুচণ্ডালের হাড়’: এটি অভিজিৎ সেনের একটি উপন্যাস হলেও এটি মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট নয়, বরং এটি সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে রচিত।
উৎস:
— গঙ্গোপাধ্যায়, সুনীল। *পূর্ব-পশ্চিম*। আনন্দ পাবলিশার্স, ১৯৯৪।
— সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার প্রাপ্ত উপন্যাসসমূহের তালিকা।
— বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা প্রবন্ধ।