ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) সুশাসনের
<সাধারণ জ্ঞানের আলোকে গণমাধ্যমের ভূমিকা সম্পর্কিত প্রাসঙ্গিক ভূমিকা>
**সুশাসন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— সুশাসন হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে সরকার, প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের মধ্যে পারস্পরিক দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত থাকে।
— সুশাসনের মূল স্তম্ভ হলো স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আইনের শাসন।
— গণমাধ্যম সুশাসনের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে কাজ করে। এটি সরকার ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ভূমিকা পালন করে।
— গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনগণ সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে পারে এবং সরকার জনগণের প্রত্যাশা সম্পর্কে অবহিত হয়।
— শক্তিশালী গণমাধ্যম সরকারের দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক।
— নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী গণমাধ্যম ছাড়া সরকারের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ (ক) সামাজিক অবক্ষয়ের: সামাজিক অবক্ষয় হলো সমাজের নৈতিক ও সাংস্কৃতিক অবনতি। গণমাধ্যমের অনুপস্থিতি সামাজিক অবক্ষয়ের কারণ হতে পারে, তবে এটি সুশাসনের অন্তরায় নয়।
✗ (খ) মূল্যবোধ অবক্ষয়ের: মূল্যবোধ অবক্ষয় হলো ব্যক্তিগত ও সামাজিক মূল্যবোধের অবনতি। গণমাধ্যমের অনুপস্থিতি মূল্যবোধ অবক্ষয়ের কারণ হতে পারে, তবে এটি সুশাসনের অন্তরায় নয়।
✗ (ঘ) শিক্ষার গুণগতমানের: শিক্ষার গুণগতমান নির্ভর করে শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর উপর। গণমাধ্যমের অনুপস্থিতি শিক্ষার গুণগতমানের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে না।
উৎস:
— জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP), *গভর্ন্যান্স ফর সাসটেইনেবল হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট* (১৯৯৭)।
— বিশ্বব্যাংক, *গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট* (১৯৯২)।
— বাংলাদেশ সরকার, *জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল* (২০১২)।