ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) অনুচ্ছেদ ২২
<বাংলাদেশের সংবিধানে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ সম্পর্কিত বিধান>
**বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ সম্পর্কিত সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২২ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **অনুচ্ছেদ ২২** বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগের (মৌলিক অধিকার ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি) অন্তর্ভুক্ত।
— এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, **"রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ হতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে বিবেচিত হবে"**।
— এটি একটি **নির্দেশাত্মক নীতি** (Directive Principle of State Policy), যার অর্থ রাষ্ট্র এই নীতিকে অনুসরণ করার চেষ্টা করবে, তবে এটি বিচারযোগ্য নয় অর্থাৎ আদালতে এই নীতির ভিত্তিতে মামলা করা যায় না।
— অনুচ্ছেদটি মূলত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছে।
— বাংলাদেশের সংবিধানের **প্রথম সংশোধনী (১৯৭৩)** এর মাধ্যমে এই অনুচ্ছেদটি যুক্ত করা হয়েছিল।
— অনুচ্ছেদটি **সংবিধানের ৮ম ভাগের (নির্দেশাত্মক নীতিসমূহ)** অন্তর্ভুক্ত।
---
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ **অনুচ্ছেদ ২৩**: এই অনুচ্ছেদটি **সমাজকল্যাণ ও সামাজিক নিরাপত্তা** সম্পর্কিত নির্দেশাত্মক নীতির সাথে সম্পর্কিত, বিচার বিভাগের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
✗ **অনুচ্ছেদ ২৪**: এই অনুচ্ছেদটি **জনগণের অধিকার রক্ষা ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব** সম্পর্কিত, বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের বিষয় এখানে উল্লেখ নেই।
✗ **অনুচ্ছেদ ২১**: এই অনুচ্ছেদটি **নাগরিকদের মৌলিক দায়িত্ব** সম্পর্কিত, যেমন দেশের উন্নয়নে অবদান রাখা, সততা রক্ষা করা ইত্যাদি। বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের বিষয় এখানে উল্লেখ নেই।
---
**উৎস:**
1. বাংলাদেশের সংবিধান, দ্বিতীয় ভাগ (মৌলিক অধিকার ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি), অনুচ্ছেদ ২২।
2. বাংলাদেশ সরকার প্রণীত *"সংবিধান পরিচিতি"* (নির্দেশাত্মক নীতিসমূহ অধ্যায়)।
3. বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ সম্পর্কিত আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতামত।