ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) বৌদ্ধধর্ম
**নির্বাণ ধারণাটি বৌদ্ধ ধর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট।**
**নির্বাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— নির্বাণ (সংস্কৃত: निर्वाण *নির্বাণ*; পালি: *নিব্বান*) হলো বৌদ্ধ ধর্মের একটি কেন্দ্রীয় ধারণা, যার অর্থ হলো মানব জীবনের দুঃখ বা *দুঃখের অবসান* এবং চক্রাকার পুনর্জন্ম থেকে মুক্তি লাভ।
— বৌদ্ধ ধর্মমতে, নির্বাণ হলো সেই অবস্থা যেখানে ব্যক্তির মন থেকে লোভ, দ্বেষ, অজ্ঞানতা প্রভৃতি অশুভ প্রবৃত্তিগুলো সম্পূর্ণরূপে দূর হয়ে যায় এবং পুনর্জন্মের চক্র থেকে মুক্তি লাভ করা যায়।
— নির্বাণকে প্রায়শই "শান্তি", "মুক্তি", বা "আধ্যাত্মিক পরিপূর্ণতা" হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এটি বৌদ্ধ ধর্মের চূড়ান্ত লক্ষ্য।
— নির্বাণ লাভের জন্য বৌদ্ধরা অষ্টাঙ্গিক মার্গ (সঠিক দৃষ্টি, সঠিক সংকল্প, সঠিক বাক্য, সঠিক কর্ম, সঠিক জীবিকা, সঠিক প্রচেষ্টা, সঠিক স্মৃতি, সঠিক ধ্যান) অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
— নির্বাণকে প্রায়শই "পরিনির্বাণ" (পরম নির্বাণ) হিসেবে বর্ণনা করা হয়, যা মৃত্যুর পর চূড়ান্ত মুক্তির অবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) হিন্দুধর্ম: হিন্দু ধর্মেও মোক্ষ নামক একটি ধারণা রয়েছে, যা জীবনের চক্র থেকে মুক্তি লাভকে নির্দেশ করে। তবে নির্বাণ শব্দটি হিন্দু ধর্মে ব্যবহৃত হয় না। হিন্দু ধর্মে মোক্ষকে নির্বাণের সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা হলেও এটি মূলত বৌদ্ধ ধর্মের ধারণা।
✗ গ) খ্রিষ্টধর্ম: খ্রিষ্টধর্মে "পরিত্রাণ" বা "মুক্তি" ধারণাটি রয়েছে, যা পাপ থেকে মুক্তি লাভকে নির্দেশ করে। তবে নির্বাণ শব্দটি খ্রিষ্টধর্মে ব্যবহৃত হয় না।
✗ ঘ) ইহুদীধর্ম: ইহুদী ধর্মে "গিলুল হাশেম" (ঈশ্বরের মহিমা প্রকাশ) বা অন্যান্য ধারণা রয়েছে, তবে নির্বাণ শব্দটি ইহুদী ধর্মে ব্যবহৃত হয় না।
**উৎস:**
— *বৌদ্ধ ধর্মের মূলনীতি* – ড. রাহুল সাংকৃত্যায়ন
— *বাংলা একাডেমি বিশ্বকোষ* (২য় খণ্ড)
— *বৌদ্ধ ধর্ম: একটি পরিচিতি* – প্রফেসর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ