ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) ওজোনস্তরে ফুটো সৃষ্টি করে
**ভূমিকা:**
বর্তমান বিশ্বে পরিবেশ সংরক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে ওজোন স্তরের ক্ষয় একটি মারাত্মক পরিবেশগত সমস্যা। বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ এই ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর মধ্যে **ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC)** অন্যতম ক্ষতিকারক গ্যাস হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে বহু ব্যবহৃত এরোসোল কৌটায় ‘সিএফসি বিহীন’ লেখা থাকার কারণ হলো এই গ্যাসের মারাত্মক ক্ষতিকারক প্রভাব।
---
**ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC) সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **রাসায়নিক গঠন ও উৎপত্তি:**
— CFC হলো এক ধরনের সিন্থেটিক রাসায়নিক যৌগ, যার মধ্যে ক্লোরিন (Cl), ফ্লোরিন (F) এবং কার্বন (C) পরমাণু থাকে।
— সাধারণত CFC-11 (CCl₃F) এবং CFC-12 (CCl₂F₂) সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হতো।
— এটি প্রথম আবিষ্কৃত হয় ১৯২৮ সালে থমাস মিডগলি জুনিয়র এবং তাঁর দল দ্বারা।
— **ব্যবহার:**
— শীতলীকরণ যন্ত্র (রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার) এ শীতলকারী পদার্থ হিসেবে।
— এরোসোল স্প্রে ক্যানে চালক গ্যাস হিসেবে।
— ফোম উৎপাদন ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ পরিষ্কারে।
— আগে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রেও ব্যবহৃত হতো।
— **ক্ষতিকারক প্রভাব:**
— **ওজোন স্তর ধ্বংস:** CFC গ্যাস সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির (UV) প্রভাবে ভেঙে ক্লোরিন পরমাণু উৎপন্ন করে। এই ক্লোরিন পরমাণু ওজোন (O₃) অণুকে ভেঙে ফেলে, ফলে ওজোন স্তরে ফুটো সৃষ্টি হয়।
— **ওজোন স্তরের গুরুত্ব:** ওজোন স্তর পৃথিবীর জীবজগতকে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করে। ওজোন স্তরের ক্ষয় হলে ত্বকের ক্যান্সার, চোখের ছানি, উদ্ভিদের ক্ষতি ইত্যাদি ঘটে।
— **গ্রিনহাউজ প্রভাবেও অবদান:**
— যদিও CFC সরাসরি গ্রিনহাউজ গ্যাস হিসেবে কাজ করে না, তবে এর ভাঙনের ফলে উৎপন্ন অন্যান্য গ্যাস (যেমন কার্বন টেট্রাক্লোরাইড) গ্রিনহাউজ প্রভাব বৃদ্ধি করে।
— CFC-এর বৈশ্বিক উষ্ণায়ন সম্ভাবনা (GWP) কার্বন ডাইঅক্সাইডের তুলনায় অনেক বেশি।
— **নিষিদ্ধকরণ:**
— **মন্ট্রিল প্রোটোকল (১৯৮৭):** জাতিসংঘের উদ্যোগে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী CFC উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়।
— বাংলাদেশ সহ বিশ্বের প্রায় সব দেশই এই চুক্তির সদস্য।
---
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ **ক) ফুসফুসে রোগ সৃষ্টি করে:**
— CFC সরাসরি ফুসফুসে রোগ সৃষ্টি করে না। তবে এর ভাঙনের ফলে উৎপন্ন ক্লোরিন গ্যাস শ্বাসনালীতে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে