ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) পরমাণু শক্তি
**ভূমিকা:**
বর্তমান বিশ্বে জ্বালানি সংকট ও পরিবেশ দূষণের কারণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির গুরুত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি বলতে সেইসব শক্তির উৎসকে বোঝায় যা প্রকৃতিতে সহজে পুনরায় উৎপন্ন হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারের ফলে নিঃশেষ হয়ে যায় না। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ চলমান রয়েছে।
**পরমাণু শক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— পরমাণু শক্তি হলো এমন এক ধরনের শক্তি যা পরমাণুর কেন্দ্রকে বিভাজন (ফিশন) বা সংযোজন (ফিউশন) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপন্ন হয়।
— এটি একটি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস নয়, কারণ ইউরেনিয়াম বা থোরিয়ামের মতো ভারী মৌলিক পদার্থের পরিমাণ সীমিত। তবে এটি জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় অনেক কম কার্বন নির্গমন করে।
— পরমাণু শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়, যেখানে নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়।
— বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দুটি ইউনিট স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণে সহায়ক হবে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) কয়লা: কয়লা একটি জীবাশ্ম জ্বালানি, যা প্রকৃতিতে সীমিত পরিমাণে রয়েছে এবং ব্যবহারের ফলে নিঃশেষ হয়ে যায়। এটি পুনর্নবীকরণযোগ্য নয়।
✗ গ) পেট্রোল: পেট্রোলও একটি জীবাশ্ম জ্বালানি, যা পেট্রোলিয়াম থেকে প্রাপ্ত হয়। এটি ব্যবহারের ফলে নিঃশেষ হয়ে যায় এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য নয়।
✗ ঘ) প্রাকৃতিক গ্যাস: প্রাকৃতিক গ্যাসও একটি জীবাশ্ম জ্বালানি, যা সীমিত পরিমাণে রয়েছে এবং ব্যবহারের ফলে নিঃশেষ হয়ে যায়। এটি পুনর্নবীকরণযোগ্য নয়।
**উৎস:**
- বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (BAEC)
- আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA)
- বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (BPDB)