ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) বায়োগ্যাস
নবায়নযোগ্য জ্বালানি হলো এমন শক্তির উৎস যা প্রকৃতিতে অবিরামভাবে পুনরায় উৎপন্ন হয় এবং ব্যবহারের ফলে নিঃশেষ হয়ে যায় না। বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির গুরুত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
**বায়োগ্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— বায়োগ্যাস হলো জৈব পদার্থের (যেমন: গোবর, ফসলের অবশিষ্টাংশ, খাদ্যের অবশিষ্টাংশ, পৌর বর্জ্য ইত্যাদি) অবাত পচনের মাধ্যমে উৎপন্ন গ্যাস।
— এটি প্রধানত মিথেন (CH₄) ও কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂) এর মিশ্রণ, যেখানে মিথেনের পরিমাণ প্রায় ৫০-৭০% থাকে।
— বায়োগ্যাস জ্বালানি হিসেবে রান্না, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও যানবাহনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
— এটি উৎপাদনের জন্য সাধারণত বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট ব্যবহার করা হয়, যেখানে জৈব পদার্থকে অবাত পরিবেশে রাখা হয়।
— বাংলাদেশে গ্রামীণ এলাকায় গোবর থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদন ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়, যা গ্রামীণ বিদ্যুতায়ন ও জ্বালানি সংকট সমাধানে ভূমিকা রাখছে।
— সরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে দেশব্যাপী বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করা হচ্ছে।
**নবায়নযোগ্য জ্বালানির অন্যান্য উৎস:**
— সৌরশক্তি: সূর্যালোক থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন।
— বায়ুশক্তি: বায়ু প্রবাহ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন।
— জলবিদ্যুৎ: নদীর প্রবাহ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন।
— ভূ-তাপীয় শক্তি: ভূ-গর্ভের তাপ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন।
— জোয়ার-ভাটা শক্তি: সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) তেল: তেল একটি জীবাশ্ম জ্বালানি, যা প্রকৃতিতে সীমিত পরিমাণে রয়েছে এবং ব্যবহারের ফলে নিঃশেষ হয়ে যায়। এটি পুনর্নবীকরণযোগ্য নয়।
✗ খ) গ্যাস: প্রাকৃতিক গ্যাসও একটি জীবাশ্ম জ্বালানি, যা সীমিত মজুদ রয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদে নিঃশেষ হয়ে যাবে। এটি পুনর্নবীকরণযোগ্য নয়।
✗ গ) কয়লা: কয়লা একটি জীবাশ্ম জ্বালানি, যা প্রকৃতিতে সীমিত পরিমাণে রয়েছে এবং ব্যবহারের ফলে নিঃশেষ হয়ে যায়। এটি পুনর্নবীকরণযোগ্য নয়।
উৎস:
- বাংলাদেশ সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি অধিদপ্তরের তথ্য।
- "Renewable Energy Sources" — আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (IEA) এর প্রকাশনা।
- "বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি" — বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (BPC) এর প্রকাশনা।