ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) ধর্মপাল
**পাল সাম্রাজ্যের বৌদ্ধ বিহার ব্যবস্থা সম্পর্কিত ভূমিকা:**
প্রাচীন বাংলার পাল সাম্রাজ্যের সময়কালে (৭৫০-১১৬১ খ্রিস্টাব্দ) বৌদ্ধ ধর্মের প্রসারের জন্য অসংখ্য বিহার নির্মাণ করা হয়েছিল। এসব বিহার ছিল শিক্ষা, ধর্মচর্চা ও সংস্কৃতির কেন্দ্র। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হলো সোমপুর বিহার, যা বর্তমান নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরে অবস্থিত। এই বিহারটি পাল সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ রাজা ধর্মপালের শাসনামলে নির্মিত হয়েছিল।
**ধর্মপাল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ধর্মপাল ছিলেন পাল সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় রাজা। তিনি আনুমানিক ৭৭০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৮১০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন।
— তিনি ছিলেন গোপালের পুত্র এবং পাল সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিবেচিত হন।
— ধর্মপালের রাজত্বকালে পাল সাম্রাজ্য উত্তর ভারতের একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্যে পরিণত হয়।
— তিনি বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এবং বহু বিহার ও মন্দির নির্মাণ করেন।
— তার রাজত্বকালে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় জাগ্রত হয়।
— ধর্মপালের রাজধানী ছিল পাটলিপুত্র (বর্তমান পাটনা, ভারত)।
— তিনি প্রতিহার রাজবংশের রাজা বৎসরাজকে পরাজিত করে কনৌজের সিংহাসনে চক্রায়ুধকে অধিষ্ঠিত করেন।
— ধর্মপালের মৃত্যুর পর তার পুত্র দেবপাল সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং সাম্রাজ্যকে আরও বিস্তৃত করেন।
**সোমপুর বিহার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— সোমপুর বিহার আনুষ্ঠানিকভাবে "সোমপুর মহাবিহার" নামে পরিচিত। এটি পাল স্থাপত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।
— বিহারটি নির্মিত হয়েছিল খ্রিস্টাব্দ অষ্টম শতাব্দীর শেষ দিকে বা নবম শতাব্দীর শুরুতে।
— এটি ছিল একটি বিশাল আয়তনের বৌদ্ধ বিহার, যেখানে প্রায় ২০০০ ভিক্ষু একসাথে বসবাস ও ধর্মচর্চা করতে পারতেন।
— বিহারের কেন্দ্রে অবস্থিত ছিল একটি বিশাল স্তূপ (স্তূপা), যা বৌদ্ধ ধর্মের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হত।
— বিহারের চারপাশে ছিল অসংখ্য কক্ষ, যেখানে ভিক্ষুরা থাকতেন এবং ধর্মীয় গ্রন্থ অধ্যয়ন করতেন।
— সোমপুর বিহার ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃত।
— বিহারের ধ্বংসাবশেষ থেকে প্রাপ্ত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো পাল সাম্রাজ্যের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও স্থাপত্যশৈলীর পরিচয় বহন করে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) গোপাল: গোপাল ছিলেন ধর্মপালের পিতা এবং পাল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি সোমপুর বিহার নির্মাণ করেননি।
✗ গ) মহীপাল: মহীপাল ছিলেন ধর্মপালের উত্তরসূরি এবং পাল সাম্রাজ্যের অন্যতম শক্তিশালী রাজা। তিনি সোমপুর বিহারের সংস্কার করেছিলেন বলে মনে করা হয়, কিন্তু প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন না।
✗ ঘ) বিগ্রহপাল: বিগ্রহপাল ছিলেন পাল সাম্রাজ্যের শেষ দিকে রাজত্বকারী একজন রাজা। তিনি সোমপুর বিহারের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন না।
**উৎস:**
— পাল রাজবংশের ইতিহাস সম্পর্কিত