ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) শশাঙ্ক
**অবিভক্ত বাংলার ইতিহাস সম্পর্কিত ভূমিকা:**
বাংলার প্রাচীন ইতিহাসের ধারায় অবিভক্ত বাংলার সর্বপ্রথম স্বাধীন ও সুসংহত রাজার নাম ইতিহাসে স্থান পেয়েছে। তাঁর রাজত্বকাল ছিল বাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
**শশাঙ্ক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— শশাঙ্ক ছিলেন গৌড় রাজ্যের রাজা, যিনি আনুমানিক ৬০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ৬৩৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন।
— তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম স্বাধীন রাজা হিসেবে পরিচিত, যিনি নিজেকে স্বাধীন ঘোষণা করেছিলেন।
— শশাঙ্কের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ (বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার রাঙ্গামাটি অঞ্চল), যা ছিল তৎকালীন বাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর।
— তিনি হর্ষবর্ধনের সমসাময়িক ছিলেন এবং তাঁর সাথে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে লিপ্ত ছিলেন। হর্ষবর্ধনের সাথে তাঁর যুদ্ধের উল্লেখ পাওয়া যায়।
— শশাঙ্ক ছিলেন শৈব ধর্মাবলম্বী, তবে তিনি অন্যান্য ধর্মের প্রতিও সহিষ্ণু ছিলেন। তিনি বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করতেন বলে ঐতিহাসিকদের ধারণা।
— তাঁর রাজত্বকালে বাংলায় শিল্প, সাহিত্য ও স্থাপত্যের বিকাশ ঘটেছিল। তিনি অনেক মন্দির ও স্তূপ নির্মাণ করেছিলেন।
— শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়, যা পরবর্তীকালে পাল রাজবংশের উত্থানের পথ সুগম করে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) অশোক: অশোক ছিলেন মৌর্য সাম্রাজ্যের একজন বিখ্যাত সম্রাট, যিনি বাংলার অংশবিশেষ শাসন করেছিলেন। তবে তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রথম রাজা ছিলেন না, কারণ তাঁর রাজত্বকাল ছিল খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে, যখন বাংলা তখনও একত্রিত হয়নি।
✗ গ) মেগদা: মেগদা ছিল একটি প্রাচীন রাজ্য, যার অবস্থান ছিল বর্তমান বিহার অঞ্চলে। এটি বাংলার অংশ ছিল না, তাই অবিভক্ত বাংলার রাজা হিসেবে তাঁকে বিবেচনা করা যায় না।
✗ ঘ) ধর্মপাল: ধর্মপাল ছিলেন পাল রাজবংশের দ্বিতীয় রাজা এবং তিনি ছিলেন একজন শক্তিশালী শাসক। তবে তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রথম রাজা ছিলেন না, কারণ তাঁর আগে শশাঙ্ক স্বাধীন রাজা হিসেবে রাজত্ব করেছিলেন।
**উৎস:**
— "প্রাচীন বাংলার ইতিহাস" — ড. নীহাররঞ্জন রায়
— "বাংলাদেশের ইতিহাস" — অধ্যাপক আবদুল করিম
— "Ancient Indian History" — R.S. Sharma