ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) কুম্ভিলকবৃত্তি
**ভূমিকা:**
বাংলা সাহিত্যে বিভিন্ন ধরনের অপকৃষ্ট কর্মকাণ্ডের জন্য বিশেষ বিশেষ শব্দ ব্যবহৃত হয়। তেমনি অন্যের রচনা থেকে চুরি করাকে নির্দেশ করতে একটি বিশেষ শব্দ রয়েছে, যা সরকারি চাকরির পরীক্ষাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
**কুম্ভিলকবৃত্তি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— কুম্ভিলকবৃত্তি হলো অন্যের লেখা বা রচনা নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া, অর্থাৎ সাহিত্যিক চুরি।
— সংস্কৃত শব্দ "কুম্ভিলক" থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো "কচ্ছপ"। কচ্ছপ যেমন তার খোলসে অন্যের সম্পত্তি বহন করে, তেমনি কুম্ভিলকবৃত্তি হলো অন্যের লেখা নিজের নামে চালানো।
— বাংলা সাহিত্যে এটি একটি নিন্দনীয় কর্ম হিসেবে বিবেচিত হয় এবং সাহিত্যিক নীতিবিরুদ্ধ।
— কুম্ভিলকবৃত্তির ফলে প্রকৃত লেখকের অধিকার ক্ষুন্ন হয় এবং সাহিত্যের মানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) বেতসবৃত্তি: এটি মূলত "বেতস" শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ বাঁশ। এটি কোনো ধরনের চুরি বা অন্যায় কর্মকে নির্দেশ করে না।
✗ খ) পতঙ্গবৃত্তি: পতঙ্গ অর্থ মথ বা পোকা, যা আলোর দিকে আকৃষ্ট হয়। এটি কোনো অপকৃষ্ট কর্মকে নির্দেশ করে না।
✗ গ) জলৌকাবৃত্তি: জলৌকা অর্থ জোঁক, যা রক্ত শোষণ করে। এটি কোনো সাহিত্যিক চুরিকে নির্দেশ করে না।
**উৎস:**
— বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান
— বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ)
— বিভিন্ন সরকারি চাকরির প্রশ্নব্যাংক ও বিগত বছরের প্রশ্নপত্র