ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
‘অনল প্রবাহ’ একটি ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় বিষয়ভিত্তিক বাংলা প্রবন্ধগ্রন্থ। এটি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
**সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট মুসলিম লেখক, কবি ও সমাজ সংস্কারক।
— জন্ম: ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে (মতান্তরে ১৮৭৫) সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলায়।
— তিনি ছিলেন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও মুসলিম জাগরণের অগ্রদূত।
— তিনি ‘মুসলিম সাহিত্য সমিতি’ প্রতিষ্ঠা করেন।
— তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
— ‘অনল প্রবাহ’ (১৯০০)
— ‘উপেক্ষিতা’ (উপন্যাস)
— ‘তুরস্ক ভ্রমণ’ (ভ্রমণকাহিনী)
— ‘মহাশিক্ষা’ (প্রবন্ধ)
— তিনি বাংলা সাহিত্যে মুসলিম জাগরণের ধারাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
— তিনি মুসলিম সমাজের মধ্যে শিক্ষা বিস্তার ও সামাজিক সংস্কারের জন্য কাজ করেন।
— তাঁর লেখনীতে ধর্মীয় চেতনা, স্বদেশপ্রেম ও মানবতাবাদের সমন্বয় ঘটেছে।
— মৃত্যু: ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে।
**‘অনল প্রবাহ’ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— এটি একটি ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক প্রবন্ধগ্রন্থ।
— গ্রন্থটিতে ইসলাম ধর্মের ইতিহাস, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনী ও ইসলামের আদর্শ তুলে ধরা হয়েছে।
— এটি মূলত মুসলিমদের ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত করার জন্য রচিত।
— গ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সাহিত্য ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
— এটি প্রকাশিত হয় ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে।
— গ্রন্থটির মাধ্যমে তিনি মুসলিম সমাজকে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে সচেতন করতে চেয়েছিলেন।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) মোজাম্মেল হক: তিনি ছিলেন একজন মুসলিম লেখক ও সমাজ সংস্কারক। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ‘বিশ্বনবী’ ও ‘মহানবী’। তিনি ‘অনল প্রবাহ’ রচনা করেননি।
✗ গ) এয়াকুব আলী চৌধুরী: তিনি ছিলেন একজন মুসলিম লেখক ও সমাজ সংস্কারক। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ‘মহানবী’। তিনি ‘অনল প্রবাহ’ রচনা করেননি।
✗ ঘ) মুনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী: তিনি ছিলেন একজন মুসলিম লেখক ও সমাজ সংস্কারক। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ‘তুরস্ক ভ্রমণ’। তিনি ‘অনল প্রবাহ’ রচনা করেননি।
**উৎস:**
— বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
— মুসলিম সাহিত্য ও সমাজ সংস্কার, ড. আনিসুজ্জামান
— বাংলা একাডেমি চরিতাভিধান