ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) অপ্রয়োজনীয় এবং ক্ষতিকর ঔষধ প্রস্তুত বন্ধ করা
**ঔষধ নীতি সম্পর্কে ভূমিকা:**
বাংলাদেশ সরকার দেশের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ঔষধ শিল্পের সুষ্ঠু বিকাশের লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে ঔষধ নীতি প্রণয়ন করেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণের জন্য নিরাপদ, কার্যকর ও মানসম্মত ঔষধ নিশ্চিত করা এবং অপব্যবহার রোধ করা।
**ঔষধ নীতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **প্রথম ঔষধ নীতি (১৯৮২):** বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ঔষধ নীতি প্রণয়ন করা হয় ১৯৮২ সালে। এই নীতির প্রধান লক্ষ্য ছিল অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর ঔষধ উৎপাদন ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
— **দ্বিতীয় ঔষধ নীতি (২০১৬):** সরকার পুনরায় ঔষধ নীতি হালনাগাদ করে ২০১৬ সালে। এই নীতির প্রধান উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
— জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ও অপ্রয়োজনীয় ঔষধ উৎপাদন ও বিপণন বন্ধ করা।
— দেশীয় ঔষধ শিল্পের বিকাশ ও স্বনির্ভরতা অর্জন করা।
— মানসম্মত ও সাশ্রয়ী মূল্যের ঔষধ নিশ্চিত করা।
— বিদেশী কোম্পানিগুলোর অনিয়ন্ত্রিত ঔষধ আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা।
— **ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর:** বাংলাদেশের ঔষধ শিল্প নিয়ন্ত্রণ ও মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। তারা ঔষধ নীতির বাস্তবায়ন তদারকি করে।
— **ক্ষতিকর ঔষধ নিয়ন্ত্রণ:** ঔষধ নীতির অধীনে যেসব ঔষধ মানহীন, অকার্যকর বা ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত হয়, সেগুলো উৎপাদন ও বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ **খ) ঔষধ শিল্পে দেশীয় কাঁচামালের ব্যবহার নিশ্চিত করা:** এটি ঔষধ নীতির প্রধান উদ্দেশ্য নয়, বরং এটি দেশীয় ঔষধ শিল্পের বিকাশের একটি অংশ মাত্র। ঔষধ নীতির মূল লক্ষ্য জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা।
✗ **গ) ঔষধ শিল্পে দেশীয় শিল্পপতিদের অগ্রাধিকার দেয়া:** এটি ঔষধ নীতির প্রধান উদ্দেশ্য নয়। সরকার দেশীয় শিল্পের বিকাশে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু এটি প্রধান লক্ষ্য নয়।
✗ **ঘ) বিদেশী শিল্পপতিদের দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহারে বাধ্য করা:** এটি ঔষধ নীতির অংশ নয়। বিদেশী কোম্পানিগুলোকে দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহারে বাধ্য করা সম্ভব নয় এবং এটি ঔষধ নীতির মূল উদ্দেশ্যও নয়।
**উৎস:**
— বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত "জাতীয় ঔষধ নীতি ২০১৬"।
— ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
— বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক ও গাইডলাইন।