সঠিক উত্তর: (ক) সোমপুর বিহার
<বিষয় সম্পর্কিত ভূমিকা>
বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতা ও স্থাপত্যশৈলীর অন্যতম নিদর্শন হিসেবে পরিচিত পাহাড়পুরের বৌদ্ধ বিহার। এটি বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃত। প্রাচীন বাংলার পাল রাজবংশের সময় নির্মিত এই বিহারটি বৌদ্ধ ধর্মের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
**পাহাড়পুরের বৌদ্ধ বিহার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **স্থান**: নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলায় অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান।
— **নির্মাতা**: পাল রাজবংশের দ্বিতীয় রাজা ধর্মপাল (৭৭০-৮১০ খ্রিস্টাব্দ) এই বিহারটি নির্মাণ করেন। ধর্মপাল ছিলেন পাল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা গোপালের পুত্র।
— **নামকরণ**: মূলত এটি **সোমপুর মহাবিহার** নামে পরিচিত ছিল। "সোমপুর" শব্দের অর্থ হলো "চন্দ্রপুর" বা "চাঁদের শহর"। স্থানীয় জনশ্রুতি অনুসারে, রাজা ধর্মপালের নামানুসারে এই বিহারের নাম রাখা হয়েছিল।
— **স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য**:
— বিহারটি আয়তাকার এবং চারদিকে আবদ্ধ একটি প্রাচীর দ্বারা ঘেরা।
— কেন্দ্রে রয়েছে একটি বিশাল স্তূপ (স্টুপা), যা বৌদ্ধ ধর্মের প্রতীক।
— বিহারের চার কোণে চারটি প্রবেশদ্বার রয়েছে।
— প্রায় ২৭ একর জমির উপর বিস্তৃত এই বিহারে রয়েছে ১৭৭টি কক্ষ, যা ভিক্ষুদের আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
— **ইতিহাস**:
— পাল রাজবংশের পতনের পর এই বিহারটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।
— ১৮৭৯ সালে ব্রিটিশ প্রত্নতাত্ত্বিক আলেকজান্ডার কানিংহাম এই স্থানটি পুনরাবিষ্কার করেন।
— ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকাভুক্ত করে।
— **গুরুত্ব**:
— এটি প্রাচীন বাংলার বৌদ্ধ ধর্ম ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল।
— বৌদ্ধ ধর্মের মহাযান ও তন্ত্রযান শাখার বিকাশে এই বিহারের ভূমিকা ছিল অপরিসীম।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) ধর্মপাল বিহার: এটি ভুল কারণ বিহারটির নাম ধর্মপালের নামে নয়, বরং ধর্মপালের নির্মিত বিহার হিসেবে পরিচিত।
✗ গ) জগদ্দল বিহার: এটি ভুল কারণ জগদ্দল বিহার নামে পরিচিত বিহারটি বাংলাদেশের অন্যত্র অবস্থিত (দিনাজপুর জেলায়)।
✗ ঘ) শ্রী বিহার: এটি ভুল কারণ শ্রী বিহার নামে পরিচিত কোনো বিহারের অস্তিত্ব নেই। শ্রী শব্দটি সাধারণত সম্মানসূচক উপাধি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
**উৎস:**
— ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (https://whc.unesco.org/en/list/321/)
— বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর কর্তৃক প্রকাশিত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সম্পর্কিত বই
— পাল রাজবংশের ইতিহাস সম্পর্কিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থ