ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পূর্ব বাংলার জনগণের ভাষা ও সংস্কৃতির অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনেই বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি উত্থাপিত হয়। এই দাবির মধ্য দিয়ে পূর্ব বাংলার জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের সূচনা ঘটে।
**ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, আইনজীবী এবং সমাজ সংস্কারক। তিনি পূর্ব বাংলার কুমিল্লা জেলার অধিবাসী ছিলেন।
— তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং পরবর্তীতে পাকিস্তান রাষ্ট্রের গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
— ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের গণপরিষদের অধিবেশনে তিনি বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করেন। তার এই দাবি ছিল পূর্ব বাংলার জনগণের ভাষাগত অধিকারের প্রথম আনুষ্ঠানিক দাবি।
— ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের এই দাবি পরবর্তীতে ভাষা আন্দোলনের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হয়, যার চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া।
— তিনি পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেন।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) আব্দুল মতিন: আব্দুল মতিন ছিলেন ভাষা আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময়কার সংগঠক। তবে তিনি পাকিস্তানের গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করেননি।
✗ গ) শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক: শেরে বাংলা ছিলেন একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ এবং বাংলার প্রধানমন্ত্রী। তিনি ভাষা আন্দোলনের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, তবে তিনি গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করেননি।
✗ ঘ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী: সোহরাওয়ার্দী ছিলেন একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ এবং পরবর্তীতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি ভাষা আন্দোলনের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, তবে তিনি গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করেননি।
**উৎস:**
— ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, আবুল কাসেম ফজলুল হক (বাংলা একাডেমি প্রকাশিত)
— পাকিস্তানের গণপরিষদের কার্যবিবরণী, ১৯৪৮
— বাংলা একাডেমি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড