ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) পাহাড়ের পাদদেশে
**ভূমিকা:**
ভূগোল ও ভূতত্ত্ব বিষয়ে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই ভূমিরূপ গঠন সম্পর্কিত প্রশ্ন আসে। এর মধ্যে ‘পলল পাখা’ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিরূপ, যা নদী ও ভূমির গঠন প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত।
**‘পলল পাখা’ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— পলল পাখা হলো এক ধরনের ত্রিকোণাকার ভূমিরূপ, যা সাধারণত পাহাড়ের পাদদেশে গঠিত হয়।
— যখন একটি নদী পাহাড় থেকে সমভূমিতে প্রবেশ করে, তখন তার প্রবাহ গতি হঠাৎ কমে যায়। ফলে নদীবাহিত পলি, বালি, কাঁকর প্রভৃতি জমা হয়ে ত্রিকোণাকার ভূমিরূপ তৈরি হয়, যা দেখতে পাখার মতো দেখা যায় বলে একে ‘পলল পাখা’ বলা হয়।
— পলল পাখা গঠনের প্রধান কারণ হলো নদীর প্রবাহ গতি হ্রাস পাওয়া এবং পলি সঞ্চয়ন।
— উদাহরণ: বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় প্রবাহিত নদীগুলো যেমন তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র প্রভৃতি পলল পাখা গঠন করেছে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) নদীর নিম্ন অববাহিকায়: এখানে নদীর প্রবাহ গতি খুবই ধীর থাকে এবং পলি সঞ্চয়ন ঘটে, কিন্তু তা পলল পাখা নয়। এখানে গঠিত ভূমিরূপকে ‘বদ্বীপ’ বা ‘সমভূমি’ বলা হয়।
✗ গ) নদীর উৎপত্তিস্থলে: উৎপত্তিস্থলে নদীর প্রবাহ গতি খুবই দ্রুত থাকে এবং পলি সঞ্চয়নের সুযোগ কম থাকে। ফলে পলল পাখা গঠিত হয় না।
✗ ঘ) নদী মোহনায়: মোহনায় গঠিত ভূমিরূপকে ‘বদ্বীপ’ বলা হয়, যা পলল পাখা থেকে আলাদা। এখানে নদীর প্রবাহ সমুদ্রে মিলিত হয় এবং পলি সঞ্চয়নের ফলে ত্রিকোণাকার ভূমিরূপ তৈরি হয়।
**উৎস:**
- ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ক বই (৯ম-১০ম শ্রেণি)
- ভূতত্ত্ব ও ভূমিরূপবিদ্যা বিষয়ক বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক
- বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি বিষয়ক সরকারি প্রকাশনা