ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) কবীন্দ্র পরমেশ্বর
‘পরাগলী মহাভারত’ সম্পর্কিত ভূমিকা:
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগে সংস্কৃত মহাভারতের অনুবাদ ও সম্পাদনার ক্ষেত্রে বাংলা ভাষায় রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো ‘পরাগলী মহাভারত’। এটি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মহাভারত অনুবাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত।
**কবীন্দ্র পরমেশ্বর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— কবীন্দ্র পরমেশ্বর ছিলেন মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট অনুবাদক ও কবি।
— তিনি চট্টগ্রাম অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন বলে ধারণা করা হয়।
— তাঁর রচিত ‘পরাগলী মহাভারত’ হলো মহাভারতের একটি অনুবাদ গ্রন্থ, যা পরাগল খাঁ নামে এক মুসলিম শাসকের নির্দেশে রচিত হয়েছিল।
— ‘পরাগলী মহাভারত’ মূলত মহাভারতের আদিপর্বের অনুবাদ হলেও পরবর্তীকালে অন্যান্য পর্বেরও অনুবাদ সম্পন্ন করেন তিনি।
— তাঁর অনুবাদে সংস্কৃত মহাভারতের ধর্মীয়, নৈতিক ও দার্শনিক বিষয়গুলো বাংলা ভাষায় সহজবোধ্য ও কাব্যিক রূপ লাভ করে।
— কবীন্দ্র পরমেশ্বর তাঁর অনুবাদে স্থানীয় ভাষারীতির প্রভাব রেখেছেন, যা বাংলা সাহিত্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) সঞ্চয়: সঞ্চয় ছিলেন মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন কবি, যিনি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ গ্রন্থের রচয়িতা হিসেবে পরিচিত। তিনি মহাভারত অনুবাদ করেননি।
✗ গ) শ্রীকর নন্দী: শ্রীকর নন্দী ছিলেন মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের আরেকজন কবি, যিনি ‘শ্রীকৃষ্ণবিজয়’ নামে কৃষ্ণলীলা বিষয়ক একটি মহাকাব্য রচনা করেন। তিনি মহাভারত অনুবাদ করেননি।
✗ ঘ) কাশীরাম দাস: কাশীরাম দাস ছিলেন মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন বিখ্যাত কবি, যিনি মহাভারতের একটি পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করেন। তবে তাঁর অনুবাদ ‘কাশীদাসী মহাভারত’ নামে পরিচিত, যা পরাগলী মহাভারত নয়।
উৎস:
— বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ)
— বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (ড. দেবেশ কুমার আচার্য)
— বাংলা একাডেমি চরিতাভিধান