ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) বরিশাল
প্রাচীন বাংলার ভূগোল ও ঐতিহাসিক জনপদ সম্পর্কিত প্রশ্নে প্রায়শই স্থানীয় নাম পরিবর্তনের বিষয়টি পরীক্ষায় আসে। প্রাচীন চন্দ্রদ্বীপ নামটি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক জনপদের নাম হিসেবে পরিচিত।
**প্রাচীন চন্দ্রদ্বীপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— প্রাচীন চন্দ্রদ্বীপ ছিল বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী একটি দ্বীপ অঞ্চল, যা বর্তমান বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত।
— চন্দ্রদ্বীপ নামটির উৎপত্তি সম্পর্কে বিভিন্ন মত রয়েছে। একটি মত অনুসারে, পাল রাজবংশের সময়কালে (৮ম-১২শ শতাব্দী) চন্দ্রবংশীয় রাজাদের দ্বারা এই অঞ্চল শাসিত হতো বলে এর নাম চন্দ্রদ্বীপ হয়।
— চন্দ্রদ্বীপ পরবর্তীকালে বিক্রমপুর, চন্দ্রখ্যাতি, এবং অবশেষে বরিশাল নামে পরিচিতি লাভ করে।
— বরিশাল নামটির উৎপত্তি নিয়ে কয়েকটি মত প্রচলিত আছে:
— একটি মত অনুসারে, পর্তুগিজ বাণিজ্যিক কেন্দ্র "ফেলতেম্বা" থেকে "বরিশাল" নামের উৎপত্তি হয়েছে।
— অন্য একটি মত অনুসারে, স্থানীয় "বরিশাল" নামটি "বড় ইশাল" থেকে এসেছে, যেখানে "ইশাল" ছিল একটি প্রাচীন স্থানীয় শব্দ।
— চন্দ্রদ্বীপ ছিল প্রাচীন বাংলার একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও বাণিজ্য কেন্দ্র। এখান থেকে মসলা, লবণ, চাল প্রভৃতি রপ্তানি হতো।
— চন্দ্রদ্বীপের উল্লেখ প্রাচীন বাংলার সাহিত্য ও ঐতিহাসিক গ্রন্থে পাওয়া যায়। যেমন, কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী তাঁর "চণ্ডীমঙ্গল" কাব্যে চন্দ্রদ্বীপের উল্লেখ করেছেন।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) মালদ্বীপ: মালদ্বীপ ভারত মহাসাগরের একটি দ্বীপ রাষ্ট্র, যা বাংলাদেশের দক্ষিণে নয়। এটি প্রাচীন চন্দ্রদ্বীপের সাথে সম্পর্কিত নয়।
✗ খ) সন্দ্বীপ: সন্দ্বীপ বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের একটি দ্বীপ, যা প্রাচীন চন্দ্রদ্বীপের অংশ ছিল না। এটি ভিন্ন একটি ঐতিহাসিক জনপদ।
✗ গ) হাতিয়া: হাতিয়া বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার একটি দ্বীপ, যা প্রাচীন চন্দ্রদ্বীপের অংশ ছিল না। এটি মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত।
উৎস:
— "বাংলাদেশের ইতিহাস" (প্রথম খণ্ড), অধ্যাপক আব্দুল করিম।
— "বাংলাদেশের ভূগোল", ড. এ. এম. চৌধুরী।
— "বাংলাদেশের স্থান নামের উৎপত্তি", মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন।