প্রেসিডেন্ট উইড্র উইলসনের 14 points এ কত নম্বর point এ জাতিপুঞ্জের সৃষ্টির কথা উল্লেখ করা হয়েছে?
ক৯
খ১২
গ১৩
ঘ১৪✓
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) ১৪
প্রেসিডেন্ট উইড্রো উইলসনের ১৪ দফা কর্মসূচি প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উপস্থাপিত হয়েছিল।
উইড্রো উইলসন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— উইড্রো উইলসন ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৮তম রাষ্ট্রপতি (১৯১৩–১৯২১)। তিনি ছিলেন একজন প্রগতিশীল রাজনীতিবিদ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শান্তিবাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রবক্তা।
— তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করেন এবং যুদ্ধ পরবর্তী শান্তি আলোচনার নেতৃত্ব দেন।
— উইলসনের নেতৃত্বে গঠিত হয় জাতিপুঞ্জ (League of Nations), যা আন্তর্জাতিক শান্তি ও সহযোগিতার জন্য প্রথম বৃহৎ সংস্থা হিসেবে কাজ করেছিল।
— তিনি ১৯১৯ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন তার আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার জন্য।
উইলসনের ১৪ দফা কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— উইলসন তার ১৪ দফা কর্মসূচি ১৯১৮ সালের ৮ জানুয়ারি মার্কিন কংগ্রেসে উপস্থাপন করেন। এটি ছিল যুদ্ধ পরবর্তী বিশ্ব ব্যবস্থা পুনর্গঠনের একটি পরিকল্পনা।
— ১৪ দফার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল জাতিগুলোর আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সাম্রাজ্যবাদী দখলদারিত্বের অবসান ঘটানো এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।
— ১৪ দফার মধ্যে উল্লেখযোগ্য দফাগুলো হলো:
১. গোপন কূটনীতি বিলোপ ও প্রকাশ্য শান্তি চুক্তি।
২. সমুদ্রে অবাধ চলাচলের অধিকার।
৩. আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাধা দূরীকরণ।
৪. জাতীয় নিরস্ত্রীকরণ।
৫. উপনিবেশিক জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণ।
৬. জার্মানির দখলকৃত অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার।
৭. বেলজিয়ামের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
৮. ফ্রান্সকে আলসাস-লোরেন অঞ্চল ফিরিয়ে দেওয়া।
৯. ইতালির সীমানা পুনঃনির্ধারণ।
১০. স্বায়ত্তশাসনের অধিকার প্রতিষ্ঠা।
১১. বলকান রাষ্ট্রগুলোর স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা।
১২. তুর্কি সাম্রাজ্যের অধীনস্থ জাতিগুলোর স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতা।
১৩. স্বাধীন পোল্যান্ড রাষ্ট্র গঠন।
১৪. জাতিপুঞ্জ গঠন (League of Nations)।
জাতিপুঞ্জ গঠনের গুরুত্ব:
— জাতিপুঞ্জ গঠনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে ১৪ দফার সর্বশেষ অর্থাৎ ১৪ নম্বর দফায়।
— এই দফায় বলা হয়েছে যে, জাতিপুঞ্জ গঠন করতে হবে বিভিন্ন জাতির মধ্যে সহযোগিতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য।
— জাতিপুঞ্জ ছিল আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রথম বৃহৎ প্রচেষ্টা, যা পরবর্তীতে জাতিসংঘের (United Nations) ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) ৯: ৯ নম্বর দ