সঠিক উত্তর: (ক) বাংলার বারো ভুঁঞাদের একজন
**ভূমিকা:**
বাংলার ইতিহাসে বারো ভুঁইয়া নামে পরিচিত বিদ্রোহী জমিদারদের মধ্যে প্রতাপাদিত্য ছিলেন অন্যতম প্রভাবশালী নেতা। মুঘল সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলায় তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
**প্রতাপাদিত্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— প্রতাপাদিত্য ছিলেন যশোর অঞ্চলের জমিদার। তাঁর জন্মস্থান সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে; কেউ কেউ বলেন তিনি যশোরের রাজধানী খুলনা জেলার সাতক্ষীরা অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন।
— তিনি ছিলেন বারো ভুঁইয়াদের অন্যতম নেতা। বারো ভুঁইয়া বলতে বাংলার স্বাধীনচেতা জমিদারদের একটি দলকে বোঝানো হতো যারা মুঘল শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন।
— প্রতাপাদিত্য মুঘল সম্রাট আকবরের সময়কালে (১৫৫৬–১৬০৫ খ্রিস্টাব্দ) মুঘলদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। তিনি মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করেছিলেন।
— প্রতাপাদিত্য ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ যোদ্ধা ও কূটনীতিবিদ। তিনি মুঘলদের বিরুদ্ধে স্থানীয় রাজাদের ঐক্যবদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
— তাঁর রাজধানী ছিল যশোরের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত অঞ্চলে। প্রতাপাদিত্যের রাজ্য ছিল যশোর, খুলনা, বরিশাল ও ফরিদপুর অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত।
— প্রতাপাদিত্য মুঘলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পরাজিত হন এবং পরবর্তীতে মুঘলদের অধীনস্থ হয়ে তাঁর রাজ্য পরিচালনা করেন। তবে তিনি তাঁর স্বাধীনতা বজায় রাখতে সক্ষম হন।
— প্রতাপাদিত্যের নামানুসারে যশোর জেলার একটি থানা ও একটি উপজেলার নামকরণ করা হয়েছে। যশোর জেলার প্রতাপনগর উপজেলা তাঁর নামেই নামকরণ করা হয়েছে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) রাজপুত রাজা: প্রতাপাদিত্য রাজপুত রাজা ছিলেন না। রাজপুতরা ছিলেন ভারতের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের ক্ষত্রিয় সম্প্রদায়ভুক্ত শাসক। প্রতাপাদিত্য ছিলেন বাংলার জমিদার।
✗ গ) বাংলার শাসক: প্রতাপাদিত্য ছিলেন বারো ভুঁইয়াদের একজন নেতা, কিন্তু তিনি পুরো বাংলার শাসক ছিলেন না। তিনি তাঁর নিজ অঞ্চলের জমিদার ছিলেন।
✗ ঘ) মোগল সেনাপতি: প্রতাপাদিত্য ছিলেন মুঘলদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী নেতা, কোনো মুঘল সেনাপতি ছিলেন না। মুঘল সেনাপতিদের মধ্যে মানসিংহ ছিলেন তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ।
**উৎস:**
— *বাংলার ইতিহাস* – অধ্যাপক আব্দুল করিম
— *বার ভূঁইয়া ও বাংলার ইতিহাস* – আবুল ফজল
— *যশোরের ইতিহাস* – অধ্যাপক মুহম্মদ এনামুল হক