ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) তৎপুরুষ
"পুষ্পসৌরভ" শব্দটি সমাসের কোন শ্রেণির অন্তর্গত তা নির্ণয় করার জন্য সমাস সম্পর্কিত মৌলিক ধারণা জানা প্রয়োজন। সমাস হলো একাধিক শব্দকে একত্রিত করে নতুন শব্দ গঠনের প্রক্রিয়া। বাংলা ব্যাকরণে সমাস প্রধানত চার প্রকার: তৎপুরুষ, কর্মধারয়, অব্যয়ীভাব ও বহুব্রীহি।
"পুষ্পসৌরভ" শব্দটির বিশ্লেষণ:
— "পুষ্প" অর্থ ফুল এবং "সৌরভ" অর্থ সুগন্ধ। এখানে "পুষ্প" হলো বিশেষ্য পদ এবং "সৌরভ" হলো বিশেষ্য পদ।
— দুটি পদ মিলিত হয়ে একটি নতুন পদ গঠন করেছে, যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রধান।
— পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি "এ" লোপ পেয়েছে ("পুষ্পের সৌরভ" থেকে "পুষ্পসৌরভ")।
— পূর্বপদের অর্থ প্রধান হওয়ায় এটি তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্গত।
তৎপুরুষ সমাস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— তৎপুরুষ সমাস হলো এমন সমাস যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রধান থাকে এবং পরপদের অর্থ গৌণ হয়।
— পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায়।
— উদাহরণ: রাজপুত্র (রাজার পুত্র), গ্রামান্তর (গ্রাম থেকে অন্তর)।
— তৎপুরুষ সমাসকে আবার কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়: দ্বিতীয়া তৎপুরুষ, তৃতীয়া তৎপুরুষ, চতুর্থী তৎপুরুষ ইত্যাদি।
— "পুষ্পসৌরভ" হলো দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ খ) কর্মধারয়: কর্মধারয় সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান থাকে এবং পূর্বপদ বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন: মহাজন (মহান যে জন)। "পুষ্পসৌরভ"-এ পরপদের অর্থ প্রধান নয়, তাই এটি কর্মধারয় সমাস নয়।
✗ গ) অব্যয়ীভাব: অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদ অব্যয় পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং সমাসের অর্থ সামান্য অর্থ প্রকাশ করে। যেমন: যথাসাধ্য (যেমন সাধ্য)। "পুষ্পসৌরভ"-এ অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়নি, তাই এটি অব্যয়ীভাব সমাস নয়।
✗ ঘ) বহুব্রীহি: বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের অর্থের কোনোটিই প্রধান থাকে না, বরং সমস্ত পদ দ্বারা ভিন্ন অর্থ প্রকাশিত হয়। যেমন: বহুব্রীহি (বহু ব্রীহি যার)। "পুষ্পসৌরভ"-এ বহুব্রীহি সমাসের বৈশিষ্ট্য দেখা যায় না।
উৎস:
— বাংলা ব্যাকরণ: ড. মুহম্মদ আবদুল হাই
— বাংলা একাডেমি ব্যাকরণ
— বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রশ্ন ব্যাংক