ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) সম্প্রদান কারক
বাংলা ব্যাকরণে কারক সম্পর্কিত আলোচনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্প্রদান কারককে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন।
**সম্প্রদান কারক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— সম্প্রদান কারক হলো বাংলা ব্যাকরণের ছয়টি কারকের একটি। এটি মূলত সংস্কৃত ব্যাকরণ থেকে গৃহীত।
— সম্প্রদান কারকের সংজ্ঞা: যে কারকে স্বত্ব ত্যাগ করে অন্যের প্রতি সম্প্রদান করা বোঝায়, তাকে সম্প্রদান কারক বলে। যেমন: "গুরুকে প্রণাম কর" — এখানে 'গুরুকে' সম্প্রদান কারক।
— সম্প্রদান কারকের বিভক্তি হলো **-কে** (অর্থাৎ কর্মকারকের মতোই বিভক্তি ব্যবহৃত হয়)।
— সম্প্রদান কারকের উদাহরণ:
— "মাকে ভাত দাও" — এখানে 'মাকে' সম্প্রদান কারক।
— "ছাত্রকে বই দাও" — এখানে 'ছাত্রকে' সম্প্রদান কারক।
— সম্প্রদান কারককে অনেক ব্যাকরণবিদ কর্মকারকের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করেন, কারণ এর বিভক্তি কর্মকারকের মতোই **-কে**।
**রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতামত:**
— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার "বাংলা ব্যাকরণ" গ্রন্থে সম্প্রদান কারককে অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করেছিলেন।
— তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে, সম্প্রদান কারকের কাজ কর্মকারক দ্বারাই সম্পন্ন করা যায়, তাই আলাদা করে সম্প্রদান কারকের প্রয়োজন নেই।
— তার মতে, সম্প্রদান কারককে কর্মকারকের অন্তর্ভুক্ত করলে ব্যাকরণ সহজ ও সরল হবে।
— রবীন্দ্রনাথের এই মতামত বাংলা ব্যাকরণের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) করণ কারক: করণ কারক হলো যে কারকে কোনো কাজ সম্পাদনের উপায় বা মাধ্যম বোঝায়। যেমন: "কলম দিয়ে লেখ" — এখানে 'কলম দিয়ে' করণ কারক। রবীন্দ্রনাথ করণ কারককে বাদ দেওয়ার কথা বলেননি।
✗ গ) অপাদান কারক: অপাদান কারক হলো যে কারকে কোনো কিছু বিচ্ছিন্ন বা উৎপন্ন হওয়া বোঝায়। যেমন: "গাছ থেকে ফল পড়ল" — এখানে 'গাছ থেকে' অপাদান কারক। রবীন্দ্রনাথ অপাদান কারককে বাদ দেওয়ার কথা বলেননি।
✗ ঘ) অধিকরণ কারক: অধিকরণ কারক হলো যে কারকে কোনো কাজ সম্পাদনের স্থান বা সময় বোঝায়। যেমন: "ঘরে বসে কাজ কর" — এখানে 'ঘরে' অধিকরণ কারক। রবীন্দ্রনাথ অধিকরণ কারককে বাদ দেওয়ার কথা বলেননি।
**উৎস:**
— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, "বাংলা ব্যাকরণ" (১৯৩০-এর দশকে রচিত)
— ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, "বাংলা ব্যাকরণ" (বাংলা একাডেমি প্রকাশিত)
— ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, "বাংলা ভাষার ব্যাকরণ"